প্রসূতির পেটে সুচ রেখেই সেলাই

প্রকাশ: ২৩ আগস্ট ২০১৯

রংপুর অফিস

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক দরিদ্র প্রসূতির পেটে সুচ রেখেই সেলাই করে দেওয়ায় হৈচৈ পড়ে যায়। সাংবাদিকরা হাসপাতালে পৌঁছলে তড়িঘড়ি করে চিকিৎসকরা ওই রোগীর পেট থেকে সুচ বের করে ফেলেন।

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও রোগীর স্বজন সূত্রে জানা গেছে, প্রসূতি আফরোজা বেগম সদর উপজেলার পাগলা পীর এলাকার তানজিদ হোসেনের স্ত্রী। গত মঙ্গলবার রাতে আফরোজার প্রসববেদনা উঠলে বুধবার বিকেল ৩টার দিকে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনি বিভাগে ভর্তি করা হয়। রাত সাড়ে ৮টার দিকে আফরোজার নরমাল ডেলিভারি করানোর চেষ্টা করা হয়। বাচ্চা তুলনামূলক বড় হওয়ায় আফরোজার জরায়ু ও মলদ্বারের কিছু অংশ কেটে একটি কন্যাসন্তান প্রসব করানো হয়। এরপর রক্তক্ষরণ হতে থাকলে দুই ঘণ্টা পর অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে রোগীর শরীর অবশ না করেই সেলাই দেওয়া হয়। এ সময় সুচ পেটের ভেতরে রেখেই সেলাই করা হয়।

আফরোজার শাশুড়ি রঞ্জিনা বেগম (৩২) বলেন, আফরোজার নিচের অংশ কেটে বাচ্চা প্রসব করার পর আমি সেলাই দিতে বলি। তখন অনেক রক্ত ঝরছিল। তারা রক্ত আনতে বললে আমরা রক্ত পাচ্ছিলাম না। কোনোভাবে রক্ত ম্যানেজ হলেও রোগীকে রক্ত না দিয়ে হাসপাতালের লোকজন অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে গিয়ে আফরোজাকে দুই ঘণ্টা ফেলে রেখেছিল। রোগীর অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে আমরা অন্য হাসপাতালে তাকে নিয়ে যাওয়ার জন্য গাড়ির ব্যবস্থা করে হাসপাতালে এসে দেখি, তাকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়েছে। প্রসূতির শরীর অবশ না করেই তারা অমানবিকভাবে কাটাছেঁড়া স্থানে সেলাই দিয়েছে। সেলাই করার পর হাসপাতালের লোকজন বলেন, পেটের ভেতরে সুচ রয়ে গেছে। আমরা এক্সরে করে দেখি, পেটের ভেতরে সুচ আছে। রোগী খুবই গরিব মানুষ, সে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরুক এটাই আমাদের চাওয়া ছিল।

ভুক্তভোগী আফারোজা জানান, অপারেশনের পর আমার পেটে ব্যথা করছিল। পেটে সুচের গুতা লাগছিল। অপারেশন থিয়েটারে দু'ঘণ্টা আমাকে হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সরা ফেলে রেখেছিলেন। অপারেশন শুরুর আগে আমি বলেছিলাম শরীরটা অবশ করার জন্য। তারা সেটি করেনি। বরং আমি সেলাইয়ের সময় চিৎকার করলে তারা আমাকে থাপ্পড় মারে। আমার চিৎকার শুনে তারা হাসাহাসি করছিল। আমার জরায়ুর দিকে চারবার কেটে সেলাই দিয়েছে। পরে তারাই বলছিল যে, সুচটা পাওয়া যাচ্ছে না।

এ ঘটনা চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে হাসপাতালের গাইনি বিভাগে সাংবাদিকরা ভিড় করেন। সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নের মুখে হাসপাতালের চিকিৎসকরা বিকেল ৩টায় অপারেশন করে আফরোজার পেট থেকে সুচ বের করেন।

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. শারমিন সুলতানা লাকি বলেন, রোগীকে সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখা হয়েছে। তার পেটে সুচ রয়েছে কি-না, এটি দেখার জন্য গত বুধবার রোগীর স্বজনদের এক্সরে করাতে বলা হয়েছিল। তারা কালক্ষেপণ করে রোগীকে সমস্যায় ফেলেছে। আমরা এক্সরে রিপোর্ট দেখে পেটে সুচ দেখতে পাই এবং অপারেশনের ব্যবস্থা করি। এখন রোগী ভালো আছে। এটি অসাবধানতাবশত হয়েছে।