অশ্বিনী দত্তের স্মৃতিবিজড়িত পুকুর ভরাট হয়ে যাচ্ছে

প্রকাশ: ২১ আগস্ট ২০১৯      

বরিশাল ব্যুরো

অশ্বিনী দত্তের স্মৃতিবিজড়িত পুকুর ভরাট হয়ে যাচ্ছে

অশ্বিনী কুমার দত্তের বাসভবনের সামনে বরিশাল কলেজের পুকুরটির ময়লা আবর্জনা ও ইটের খোয়া ফেলে ভরাট করা শুরু করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ - সমকাল

বরিশালে অশ্বিনী কুমার দত্তর বাসভবনের সম্মুখে থাকা সরকারি বরিশাল কলেজ পুকুরটি দখলে-দূষণে এখন মজা ডোবায় পরিণত হয়েছে। বরিশাল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষদের হাতে পুকুরের বেশির ভাগ অংশই ভরাট হয়ে গেছে। বর্তমান অধ্যক্ষ আবদুর রাজ্জাক রাতের আঁধারে পুকুরের বাকি অংশও এবার ভরাটের উদ্যোগ নিয়েছেন। গত সোমবার রাতে পুকুরটির পাড়ে ইটের খোয়া ও রাবিশ ফেলে ভরাট শুরু করা হয়েছে।

এর আগে কলেজের একাধিক সাবেক অধ্যক্ষের উদ্যোগে পুকুরের ভরাট করা অংশে (প্রায় অর্ধেক) পাকা মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে। সে সময় পুকুরটির উত্তর দিকের একাংশও ভরাট করা হয়। এরপর অগোচরে ভরাটের জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষ পুকুরের পশ্চিম দিকে সুউচ্চ দেয়ালও তুলেছে। যাতে ভেতরে ভরাট হলেও বাইরে থেকে সেটা দেখা না যায়। এরপর ভেতরে আস্তে আস্তে চলে ভরাটের কাজ। পুকুরটি দেখলে এখন আর বোঝার উপায় নেই একসময় এই পুকুরটিই এলাকার মানুষের গোসলসহ নিত্যদিনের পানির জোগান দিত। অশ্বিনী কুমার দত্ত তার বাড়ির সম্মুখে নিজের ব্যবহার ও এলাকাবাসীর সুবিধার কথা চিন্তা করে পুকুরটি খনন করেছিলেন।

২০১০ সালে পুকুরটি রক্ষায় উদ্যোগ নেন তৎকালীন মেয়র শওকত হোসেন হিরন। ২০১২ সালে কলেজের তখনকার অধ্যক্ষ মজিবুর রহমান পুকুরের বাকি অংশ ভরাটের চেষ্টা চালান। তখন নাগরিকদের বাধার মুখে পড়ে তিনি তা থেকে সরে আসেন। পরে অবশ্য ২০১৮ সালে পুকুরটির মৃত্যু ঘটাতে উঠেপড়ে লাগেন তখনকার অধ্যক্ষ খন্দকার অলিউল ইসলাম। তিনি পুকুরের বাকি অংশে রাস্তা নির্মাণ এবং অনেকটা মাটি ও খোয়া দিয়ে ভরাট করেন। আর বর্তমান অধ্যক্ষ সম্পূর্ণভাবে পুকুরটি মেরে ফেলার উদ্যোগ নিয়েছেন। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে আবদুর রাজ্জাক বলেন, কলেজের কিছু রাবিশ ও খোয়া অব্যবহূত ছিল, সেগুলো পুকুরের পাশে রাখা হয়েছে। ভরাটের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

১৯৬২ সালে শিক্ষাবিদ জয়ন্ত কুমার দাস, হোসেন আলী ও শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিত্বদের সহযোগিতায় অশ্বিনী দত্তের বাসভবনে নাইট কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হয়। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর এটিই বরিশাল কলেজে পরিণত হয়। এরপর কলেজ উন্নয়নের নামে ১৯৯১ সালে কলেজ কর্তৃপক্ষ অশ্বিনী দত্তর মূল বাসভবনটি ভেঙে ফেলে।

এ বিষয়ে বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইসরায়ের হোসেন বলেন, নগরীর জলাধার ভরাট করা নিষিদ্ধ। সরকারি বরিশাল কলেজের পুকুরটি নগরীর ঐতিহ্য হিসেবে সংরক্ষণ করা হবে।