যৌতুক না পেয়ে নারায়ণগঞ্জে স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যা

প্রকাশ: ২১ আগস্ট ২০১৯      

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দিতে না পারায় সুমাইয়া আক্তার বর্ষাকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামীর বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত মোস্তাফিজুর রহমান নয়নকে আটক করেছে পুলিশ। হত্যার ঘটনায় বর্ষার বাবা মঞ্জুর ভূঁইয়া গতকাল মঙ্গলবার বন্দর থানায় মামলা করেছেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০১৩ সালে ঢাকার দনিয়া এলাকার মঞ্জুর ভূঁইয়ার মেয়ে বর্ষার সঙ্গে বন্দর উপজেলার আলীসারদীর শহিদুল্লাহ মিয়ার ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান নয়নের বিয়ে হয়। তাদের একটি মেয়ে আছে। প্রায়ই নয়ন যৌতুকের জন্য স্ত্রীকে নির্যাতন করত। এরই ধারাবাহিকতায় গত সোমবার সন্ধ্যায় যৌতুক নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে রাত পৌনে ৭টায় নয়ন ক্ষিপ্ত হয়ে স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার পর লাশ ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রাখে। এলাকাবাসী জানার আগে নয়ন ও তার বাবা শহিদুল্লাহ মিয়া তড়িঘড়ি করে লাশ নামিয়ে একটি গাড়িতে করে ঘারমোড়া এলাকায় রিসমাত ফার্মেসিতে নিয়ে আসে। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক বর্ষাকে মৃত ঘোষণা করলে লাশ ফের বাড়ি নিয়ে আসে তারা। পরে বর্ষার স্বামী-শ্বশুর বর্ষার মৃত্যু স্বাভাবিক বলে প্রচার করে। বর্ষার মা জানান, তার মেয়েকে প্রতিনিয়ত কুপ্রস্তাব দিত নয়নের ছোট ভাই নাঈম। বর্ষার ছোট বোন মীম জানান, সোমবার বিকেলে বর্ষা তাকে ইমোতে ফোন করে খুব কান্নাকাটি করেন। স্বামী নয়ন প্রতিদিন মারধর করে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করেছে। এ বাড়িতে থাকলে নয়ন মারধর করে মেরে ফেলবে- এই ভয়ে তাকে বাবার বাড়ি নিয়ে যাওয়ার জন্য অনুরোধও করে বর্ষা। প্রায় এক ঘণ্টা দুই বোনের মধ্যে কথা হয়।

এ ব্যাপারে বন্দর থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। বর্ষার স্বজন ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলেছি। লাশের গলায় জখমের দাগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এর রিপোর্ট পেলে বোঝা যাবে, এটি হত্যাকাণ্ড না স্বাভাভিক মৃত্যু।

আটক নয়নকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে গতকাল আদালতে পাঠানো হয়েছে।