ডেঙ্গু প্রতিরোধে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা জানাতে নির্দেশ

প্রকাশ: ২১ আগস্ট ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি কী ধরনের পরিকল্পনা রয়েছে, তা জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট। পাশাপাশি ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের কর্মীরা কখন কীভাবে কোন ওয়ার্ডে কী কাজ করেন এবং ডেঙ্গু রোগীর প্রকৃত সংখ্যাসহ এ বিষয়ে সিটি করপোরেশনের ভূমিকাও প্রতিবেদন আকারে জমা দিতে বলা হয়েছে। আগামী ২৬ আগস্টের মধ্যে দুই সিটি করপোরেশনের মেয়রসহ সংশ্নিষ্টদের এই প্রতিবেদন জমা দিতে হবে।

বিচারপতি তারিক উল হাকিম ও বিচারপতি মো. সোহরাওয়ারদীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল মঙ্গলবার এ আদেশ দেন। এর আগে শুনানিতে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা না কমায় ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের কার্যক্রমে অসন্তোষ প্রকাশ করে হাইকোর্ট বলেন, 'প্রতিদিনই নতুন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। ওষুধ দিলে তো লাভ হয় না। আল্লাহ আমাদের বাঁচাচ্ছেন।'

এর আগে শুনানিতে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল কাজী মাইনুল হাসান আদালতে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, 'ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দুই সিটি করপোরেশনকে টাকা দেওয়া হয়েছে।' তখন হাইকোর্ট বলেন, যে টাকা দেওয়া হয়েছে, তা ঠিকমতো ব্যবহার করা হচ্ছে কি-না। জবাবে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে উত্তর সিটি করপোরেশনকে এক হাজার ৬২০ জন এবং দক্ষিণ সিটি করপোরেশনকে দুই হাজার ২৫০ জন কর্মী অস্থায়ীভাবে নিয়োগের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। একটি মনিটরিং টিমও করা হয়েছে। এ ছাড়া এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে নতুন ওষুধ আনা হয়েছে। তখন আদালত বলেন, 'আপনি অ্যাকটিভ হলে তো হবে না। নতুন জনবল কী কাজ করছে? কোনো উন্নতি হয়েছে কি-না। ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে এর সদুত্তর না পেয়ে এ পর্যায়ে সিটি করপোরেশনের আইনজীবী তৌফিক ইনামের উদ্দেশে আদালত বলেন, 'ওষুধ মারার পর কার্যকর ফলাফল আসছে? আগের ওষুধে কি মশা মরছে? নাকি দক্ষিণের মশা উত্তরে যাচ্ছে। এটা টোটালি আপনাদের গাফিলতি। প্রতিদিনই মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হচ্ছে।'

জবাবে তৌফিক এনাম আদালতকে জানান, সারাদেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা কমছে। আদালত তখন বলেন, 'উত্তর সিটি করপোরেশন তো আর সারাদেশে ওষুধ ছিটাচ্ছে না। ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা কমছে। এর কারণ প্রকৃতি।' তখন তৌফিক ইনাম বলেন, ঢাকায়ও ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা কমছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশকৃত মশা মারার

ওষুধ আনা হয়েছে। এ পর্যায়ে নতুন ওষুধের কার্যকারিতা নিয়ে আদালত বলেন, 'হাসপাতালে নতুন ডেঙ্গু রোগী না এলে আমাদের কনসার্ন (উদ্বেগ) থাকবে না।' এক পর্যায়ে আইনজীবী তৌফিক ইনাম আদালতকে জানান, যারা ওষুধ ছিটাচ্ছেন তাদের কার্যক্রম মনিটরিং করা হচ্ছে। মোবাইল ট্র্যাকিং করা হচ্ছে। আদালত বলেন, ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে জন্য তদন্ত হওয়া দরকার। পরে আদেশ দিয়ে ২৬ আগস্ট ফের শুনানির দিন ধার্য করেন হাইকোর্ট।

রাজধানীতে জীবাণুবাহক মশার বিস্তার এবং ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে রোগীর মৃত্যু নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে গত ১৪ জুলাই রুলসহ স্বপ্রণোদিত আদেশ দেন হাইকোর্ট। আদেশে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া নির্মূলে দুই সিটি করপোরেশন কী পদক্ষেপ নিয়েছে, তা এক সপ্তাহের মধ্যে হলফনামা আকারে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ের মাধ্যমে বিবাদীদের জানাতে বলা হয়। এর ধারাবাহিকতায় গতকালও শুনানি গ্রহণ করেন হাইকোর্ট। বর্তমানে হাইকোর্টের দুটি পৃথক বেঞ্চে ডেঙ্গু ইস্যুতে শুনানি চলছে।