ট্রেনের বগিতে লাশ হত্যার আগে ধর্ষণ করা হয় মেয়েটিকে

প্রকাশ: ২১ আগস্ট ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক ও পঞ্চগড় প্রতিনিধি

রাজধানীর কমলাপুর স্টেশনে ট্রেনের পরিত্যক্ত বগিতে মাদ্রাসাছাত্রী আসমা খাতুনকে (১৮) হত্যার আগে ধর্ষণ করা হয়েছিল। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে তার মরদেহে ময়নাতদন্ত শেষে চিকিৎসক এই তথ্য দিয়েছেন। রেল পুলিশ ধারণা করছে, ট্রেনে ওঠার আগেই ওই তরুণী ধর্ষণের শিকার হতে পারেন। পরে তাকে বগির ভেতর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তার প্রেমিক বাঁধন ওরফে লিটন নামে এক যুবককে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

ময়নাতদন্ত শেষে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ফরেনসিক মেডিসিন

বিভাগের প্রভাষক প্রদীপ বিশ্বাস বলেন, মেয়েটিকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। শরীরে নির্যাতনেরও চিহ্ন রয়েছে। ধর্ষণের আলামতও পাওয়া গেছে। এই চিকিৎসক বলেন, মরদেহ থেকে প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করে প্যাথলজি ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর পুরো বিষয়ে আরও নিশ্চিত হওয়া যাবে।

ঢাকা রেলওয়ে থানার ওসির দায়িত্বে থাকা উপপরিদর্শক রুশো বণিক বলেন, তরুণীর লাশ উদ্ধারের ঘটনায় হত্যা মামলা হয়েছে। এতে বাঁধন ওরফে লিটন নামে এক তরুণকে আসামি করা হয়েছে। তাকে গ্রেফতার করা গেলে বিস্তারিত জানা যাবে।

এদিকে আসমার লাশ উদ্ধারের খবরে পঞ্চগড়ে তার গ্রামের বাড়িতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। মেয়ের এমন মৃত্যুর খবর মেনে নিতে পারছেন না মা-বাবা। আসমা পঞ্চগড় সদরের শিংপাড়া গ্রামের আবদুর রাজ্জাকের মেয়ে। স্থানীয় খানবাহাদুর মাদ্রাসা থেকে এবার দাখিল পাস করে সে। এরপর পরিবারের আর্থিক অনটনে আর কলেজে ভর্তি হতে পারেনি।

স্বজনের ভাষ্য অনুযায়ী, পাশের হেলিপ্যাড সিতাগ্রাম এলাকার হানিফ ইসলামের ছেলে মারুফ হাসান বাঁধনের সঙ্গে আসমার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গত রোববার সকালে তারা দু'জন একই সময়ে বাড়ি থেকে বের হয়। এর পর থেকে আসমার মতো বাঁধনেরও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। বাঁধন আসমার সহপাঠী এবং একই মাদ্রাসা থেকে দাখিল পাস করে।

এ ঘটনায় গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য মজাহারুল হক প্রধান, জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিন, পুলিশ সুপার মো. ইউসুফ আলী নিহত আসমার বাড়ি পরিদর্শন করেন।