সেদিন মরে গেলেই বেঁচে যেতাম

সাইদুল হক সরদার গ্রেনেড হামলায় আহত

প্রকাশ: ২১ আগস্ট ২০১৯      

মাথাসহ শরীরের একাধিক স্থানে গ্রেনেডের স্পিল্গন্টার এখনও যন্ত্রণা দেয়। রাতে ঘুমাতে পারি না। হয়তো এই যন্ত্রণা নিয়েই পৃথিবী থেকে বিদায় নিতে হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কিছু আর্থিক সহযোগিতা করেছিলেন। এর বাইরে আর

কেউ খোঁজখবরও নেননি। কোনো চাকরি নেই। একটি দোকান দিয়ে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে কোনো রকম দিন চলে। শরীরে স্পিল্গন্টারের যন্ত্রণা আর আর্থিক কষ্ট। এর চেয়ে ভালো ছিল যদি সেদিন মরে যেতাম। মরে গেলেই অভাব-অনটন আর দুঃসহ যন্ত্রণা থেকে বেঁচে যেতাম।

এখনও সেদিনের কথা মনে পড়লে বুকটা কেঁপে ওঠে। সেই স্মৃতি আজও ভুলতে পারি না। মহাসমাবেশ শুরু হয়। আমি ছিলাম অনেক পেছনে। শেখ হাসিনাকে দেখার জন্য আস্তে আস্তে মঞ্চের ১০-১২ হাত দূরত্বে চলে আসি। দাঁড়িয়ে নেত্রীর বক্তব্য শুনতে থাকি। বক্তব্য প্রায় শেষ। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু শেষ করতে পারেননি। তার মধ্যে বোমার শব্দ। পরপর দুটি বোমা বিস্ম্ফোরণের শব্দ পেলাম। চারদিকে কালো ধোঁয়া। মানুষের আর্তনাদ। আমিও কোনো কিছু না বুঝে দৌড় দিতে যাব। তখনই তৃতীয় বোমাটি বিস্ম্ফোরিত হয়। আমি মাটিতে লুটিয়ে পড়ি। বুঝতে পারি অসংখ্য মানুষ আমার শরীরের ওপর দিকে যাচ্ছে। তারপর জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। ভাবিনি বেঁচে যাব। বর্তমানে শরীরে যে যন্ত্রণা এর চেয়ে সেদিন মৃত্যুই ভালো ছিল।

বর্তমানে কালকিনি উপজেলার সামনে একটি ছোট চায়ের দোকান দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করি। তাতে সংসার চালাতে খুব কষ্ট হয়। মাঝে মাঝে শরীরে তীব্র ব্যথা অনুভব করলে গ্রাম্য ডাক্তার দেখাই। উন্নত চিকিৎসা করানোর মতো আর্থিক অবস্থা নেই। যদি প্রধানমন্ত্রী এককালীন কিছু টাকা দিতেন, তাহলে ঢাকার বড় একটি হাসপাতালে চিকিৎসা করাতাম। আজও মনেপ্রাণে আওয়ামী লীগকে ভালোবাসি। প্রধানমন্ত্রীকে শ্রদ্ধা করি। তিনি আমার প্রতি একটু সদয় হলে বেঁচে থাকা সহজ হতো।