রায় কার্যকর দেখে যেতে পারলে মরেও শান্তি পাব

মোতালেব মৃধা নিহত মামুন মৃধার বাবা

প্রকাশ: ২১ আগস্ট ২০১৯      

বয়স হয়েছে। শরীরে নানা অসুখ বাসা বেঁধেছে। আমরা স্বামী-স্ত্রী বেঁচে আছি আমাদের কলিজার টুকরা মামুন মৃধার খুনিদের বিচারের রায় কার্যকর দেখে যেতে। বিচারে ঘাতকদের ফাঁসির আদেশ শুনে খুশি হয়েছি। এখন ওই রায় কার্যকর

হওয়াটা দেখে মরতে পারলে আমরাও শান্তি পাব; মামুনের আত্মাও শান্তি পাবে।

আমার সংসারে আয়-রোজগার করার কেউ নেই। মামুনই ছিল আমাদের একমাত্র সম্বল। মামুনের মা ও আমার দু'জনেরই বয়স হয়েছে। আমি কোনো কাজ করতে পারি না। মামুনের মায়ের জন্য প্রতি মাসে ৫-৬ হাজার টাকার ওষুধ লাগে। নিজের শরীরেও বিভিন্ন রোগ বাসা বেঁধেছে। ভালো ডাক্তার দেখানোর সামর্থ্য নেই। মামুন বেঁচে থাকলে হয়তো আজ আমাদের এই করুণ পরিণতি হতো না। প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ১০ লাখ টাকায় আগে ১০ হাজার ৭০০ টাকা প্রতি মাসে মুনাফা পেতাম। বর্তমানে আট হাজার টাকা পাচ্ছি প্রতি মাসে। এছাড়া বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্ট থেকে প্রতি মাসে পাঁচ হাজার টাকা দেওয়া হচ্ছে। এই সামান্য টাকায় টেনেটুনে কোনোমতে সংসার চলে। চিকিৎসা করাব কী করে।

এক ছেলে ও চার মেয়ে নিয়ে আমার সুখের সংসার ছিল। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় সেই সাজানো সংসার তছনছ করে দিয়েছে ঘাতকরা। চার মেয়ের সবার বিয়ে হয়ে গেছে। তারাও সুখে নেই। সংসারে অভাব-অনটন লেগেই আছে। চলতি প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে ছোট দুই মেয়ে। জানি না তাদের চাকরি হবে কি-না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে এই দুই মেয়ের চাকরির ব্যবস্থা করার অনুরোধ করছি। মামুনকে আর ফিরে পাব না। এখন যাতে দুই বেলা খেয়ে-পরে বেঁচে থাকতে পারি, চিকিৎসা করাতে পারি- সেই আকুতিই করছি প্রধানমন্ত্রীর কাছে।