বরগুনায় রিফাত হত্যা

মিন্নির জামিন কেন নয় জানতে চান হাইকোর্ট

প্রকাশ: ২১ আগস্ট ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

বরগুনায় আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় গ্রেফতার তার স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিকে কেন জামিন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। জামিন প্রশ্নে রুল শুনানির জন্য ২৮ আগস্ট দিন ধার্য করেছেন আদালত।

বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল মঙ্গলবার এ আদেশ দেন।

মিন্নি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার আগেই স্থানীয় পুলিশ সুপার মারুফ হোসেনের সংবাদ সম্মেলন নিয়ে এদিন অসন্তোষ প্রকাশ করেন হাইকোর্ট। পরে মিন্নিকে কেন জামিন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন আদালত। আগামী সাত দিনের মধ্যে স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন সচিবসহ সংশ্নিষ্ট বিবাদীদের এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। ২৮ আগস্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বরগুনা সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হুমায়ুন কবিরকে যাবতীয় নথিসহ আদালতে

হাজির থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পৃথক আদেশে মিন্নি রিমান্ড শেষে আদালতে জবানবন্দি দেওয়ার আগের দিনই পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন কোন কর্তৃত্ববলে সংবাদ সম্মেলন করে 'মিন্নি দোষ স্বীকার' করেছেন বলে বক্তব্য দিয়েছেন, সেই বিষয়েও পুলিশ সুপারকে লিখিত ব্যাখ্যা ২৮ আগস্ট দাখিল করতে বলা হয়েছে। ওইদিন এ মামলার বিষয়ে ফের শুনানি করা হবে।

আদালতে মিন্নির জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেড আই খান পান্না ও এএম আমিন উদ্দিন। তার সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী এম মঈনুল ইসলাম ও মাক্কিয়া ফাতেমা ইসলাম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) সারোয়ার হোসাইন বাপ্পী।

শুনানিতে মিন্নির জামিনের বিষয়ে আইনজীবী এম আমিনউদ্দিন আদালতকে বলেন, মিন্নির জন্য শুধু জামিন চাচ্ছি। সে পালাতে পারবে না। সে তার বাবার হাওলায় (জিম্মা) থাকবে। তা ছাড়া এ মামলায় গ্রেফতার ১৫ জনের মধ্যে চারজন জবানবন্দি দিয়ে দিয়েছে। সুতরাং তদন্ত প্রভাবিত করারও সুযোগ নেই। তখন জামিনের বিরোধিতা করে রাষ্ট্রপক্ষে ডিএজি সারোয়ার হোসাইন শুনানিতে বলেন, গ্রেফতার ১৫ জনের মধ্যে চারজন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। চারজনের জবানবন্দিতেই এ হত্যাকাে মিন্নির সম্পৃক্ততার বিষয়টি উঠে এসেছে। সে এই হত্যাকাে র মূল নকশাকারী এবং ষড়যন্ত্রকারী। তিনি আরও বলেন, এটা খুবই আলোচিত মামলা। এ মামলায় তাকে জামিন দেওয়া যায় না। এরপর আদালত মিন্নির জামিনের বিষয়ে রুল জারিসহ অন্যান্য আদেশ দেন।

গত ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে রামদা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে রিফাত শরীফকে। তার স্ত্রী মিন্নি হামলাকারীদের সঙ্গে লড়াই করেও তাদের দমাতে পারেননি। পরে গুরুতর আহত রিফাতকে ওইদিনই বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে বিকেলে মারা যান। এ ঘটনায় রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ ১২ জনের নাম উল্লেখ ও পাঁচ-ছয়জনকে অজ্ঞাত আসামি করে বরগুনা থানায় হত্যা মামলা করেন।