অশীতিপর রাবেয়ার মামলা শুনানি ১৫ অক্টোবর ভোলার এসপি ক্ষমা চেয়ে পার পেলেন

প্রকাশ: ২১ আগস্ট ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

অস্ত্র মামলা থেকে মুক্তি পেতে আদালতে ১৮ বছর ধরে হাজিরা দিয়ে চলা অশীতিপর রাবেয়া খাতুনের কেসটির পরবর্তী শুনানির তারিখ হাইকোর্ট আগামী ১৫ অক্টোবর ধার্য করেছেন। বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি মো. রিয়াজ উদ্দিন খানের হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল মঙ্গলবার আংশিক শুনানির পর এ দিন নির্ধারণ করেন।

অন্যদিকে গতকাল ভোলার পুলিশ সুপার (এসপি) সরকার মো. কায়সার আদালতে হাজির হয়ে নিঃশর্ত ক্ষমা চান। যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে সরাসরি বিচারকের কাছে প্রতিবেদন পাঠানোর অভিযোগে গত ১৭ জুলাই তাকে তলব করা হয়েছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল তিনি আদালতে হাজির হয়ে ভুলের জন্য আইনজীবীর মাধ্যমে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন। আদালত শুনানির পর এসপি কায়সারের আবেদন মঞ্জুর

করেন। পাশাপাশি রাবেয়া খাতুনের আইনজীবীকে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা কোনো মামলা বাতিলের রায়ের অনুলিপি আদালতকে দিতে বলেন।

এ সময় এসপি কায়সারের পক্ষে ছিলেন সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি এএম আমিনউদ্দিন ও আইনজীবী আবদুল আলিম জুয়েল। আদালতে রাবেয়া খাতুনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী আশরাফুল আলম নোবেল। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জাহিদ সারওয়ার কাজল ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল শাহীন মৃধা।

গত ১৭ জুলাই অস্ত্র মামলার আসামি জুলহাস জীবিত না মৃত, তা প্রতিবেদন আকারে জানানোর জন্য ডিএমপি কমিশনার ও তেজগাঁও থানা কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। এ আদেশের ধারাবাহিকতায় গতকাল থানা কর্তৃপক্ষ আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে। প্রতিবেদনে নানা অসঙ্গতি রয়েছে বলে আদালত 'অসন্তোষ' প্রকাশ করেন।

অবৈধ অস্ত্র ও গুলি রাখার অপরাধে তেজগাঁও থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবদুর রাজ্জাক বাদী হয়ে অশীতিপর রাবেয়া খাতুনসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন ২০০২ সালের ২ জুন (নম্বর ১৯৩৮/০২। ২০০৩ সালের ২৪ মার্চ এ মামলার বিচার শুরু হয়। গত ১৪ বছর আদালতে জুলহাসের কোনো উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। কিন্তু এ মামলা থেকে মুক্তি পেতে আদালতের বারান্দায় ১৮ বছর ধরে ঘুরছেন এই অশীতিপর মানুষটি।