প্রধানমন্ত্রীকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ মোদির

প্রকাশ: ২১ আগস্ট ২০১৯      

কূটনৈতিক প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারত সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ঢাকায় সফররত ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শংকর গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে গণভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এসে প্রধানমন্ত্রীর কাছে নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণপত্র তুলে দেন। প্রধানমন্ত্রী আমন্ত্রণ গ্রহণ করে মোদিকে ধন্যবাদ জানান এবং তার শুভেচ্ছাও ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে পৌঁছে দেওয়ার জন্য বলেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ৩ ও ৪ অক্টোবর দিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য 'ইন্ডিয়ান ইকোনমিক সামিটে' অংশ নেবেন। এ সম্মেলনে তিনি নতুন সামাজিক ব্যবস্থাবিষয়ক আলোচনায় কো-চেয়ারের দায়িত্ব পালন করবেন। এরপর ৫ ও ৬ অক্টোবর দ্বিপক্ষীয় সফরে ভারতে থাকবেন প্রধানমন্ত্রী। সফরকালে তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। বৈঠকে একগুচ্ছ সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে। এ সফরের আলোচ্যসূচি তৈরির জন্য বাংলাদেশ ও ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্নিষ্টরা কাজ করছেন। এর আগে ২০১৭ সালের এপ্রিল মাসে দিল্লি সফর করেন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বাসস জানায়, অক্টোবরের দ্বিপক্ষীয় সফর সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম গতকাল সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। তিনি জানান, সৌজন্য সাক্ষাৎকালে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিগত পাঁচ বছরে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক একটি নতুন উচ্চতায় আসীন হয়েছে। তিনি বলেন, এ সময়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দু'দেশের মধ্যে পারস্পরিক সমঝোতা এবং সহযোগিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে জয়শংকর বলেন, দুই দেশের জনগণের মধ্যে পরস্পরের দেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রটিকে সহজ করতে চায় ভারত। এ সময় বাংলাদেশের জ্বালানি ক্ষেত্রে সহযোগিতার বিষয়ে ভারতের আগ্রহের কথা জানিয়ে জয়শংকর বলেন, 'দুই দেশের মধ্যে জলবিদ্যুৎ খাতে কার্যকর সহযোগিতার সম্ভাবনা রয়েছে, যেহেতু এর খরচও কম।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারত তাদের ব্যবসা এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণের জন্য বাংলাদেশের চট্টগ্রাম, মোংলা এবং পায়রা বন্দর ব্যবহার করতে পারে। দু'দেশের মধ্যে যোগাযোগের ক্ষেত্রগুলো উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, রেল, সড়ক এবং আকাশপথে যোগাযোগের ক্ষেত্রে অনেক রুট ইতিমধ্যে উন্মুক্ত হয়েছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বিশেষ করে দু'দেশের মধ্যকার সীমান্ত সমস্যা সমাধানের উল্লেখ করেন।

এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন, দিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার সৈয়দ মুয়াজ্জেম আলী, ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার রীভা গাঙ্গুলী দাস এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সাজ্জাদুল হাসান বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের আমন্ত্রণে তিন দিনের সরকারি সফরে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গত রাতে বাংলাদেশে আসেন। গত ৩০ মে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মন্ত্রিসভায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে শপথগ্রহণের পর এটাই জয়শংকরের প্রথম বাংলাদেশ সফর।