হুমায়ুন আজাদের মৃত্যুবার্ষিকী কাল

প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

বহুমাত্রিক ও প্রথাবিরোধী লেখক, গবেষক ও ভাষাবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. হুমায়ুন আজাদের ১৫তম মৃত্যুবার্ষিকী আগামীকাল সোমবার। ২০০৪ সালের ১২ আগস্ট জার্মানির মিউনিখ শহরে তিনি মারা যান। এর আগে ওই বছরের ২৭ ফেব্রুয়ারি বাংলা একাডেমির বইমেলা থেকে বাসায় ফেরার পথে একদল সন্ত্রাসী হুমায়ুন আজাদকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে হুমায়ুন আজাদ সুস্থ হয়ে ওঠেন। ৭ আগস্ট একটি গবেষণা বৃত্তি নিয়ে তিনি জার্মানি যান। এর পাঁচ দিন পর ১২ আগস্ট মিউনিখের নিজ ফ্ল্যাটে তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ 'অলৌকিক ইস্টিমার' প্রকাশিত হয় ১৯৭৩ সালে। মূলত গবেষক ও প্রাবন্ধিক হলেও হুমায়ুন আজাদ নব্বইয়ের দশকে একজন ঔপন্যাসিক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন।

১৯৪৭ সালের ২৮ এপ্রিল বিক্রমপুরের রাঢ়ীখাল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন হুমায়ুন আজাদ। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯২ সালে প্রকাশিত হয় তার  প্রবন্ধের বই 'নারী'। বইটি প্রকাশের পর তিনি মৌলবাদীদের তীব্র রোষানলে পড়েন। তার সাতটি কাব্যগ্রন্থ রয়েছে। এর মধ্যে 'অলৌকিক ইস্টিমার', 'জ্বলো চিতাবাঘ', 'সব কিছু নষ্টদের অধিকারে যাবে', 'যতোই গভীরে যাই মধু যতোই ওপরে যাই নীল', 'আমি বেঁচেছিলাম অন্যদের সময়ে' অন্যতম। তার প্রকাশিত উপন্যাসের সংখ্যা ১৩টি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- 'ছাপ্পান্নো হাজার বর্গমাইল', 'সব কিছু ভেঙে পড়ে', 'যাদুকরের মৃত্যু', 'শুভব্রত, 'তার সম্পর্কিত সুসমাচার'। প্রবন্ধ ও গবেষণার মধ্যে রয়েছে 'বাংলা ভাষার শত্রুমিত্র', 'কাফনে মোড়া অশ্রুবিন্দু', 'বাক্যতত্ত্ব', 'তুলনামূলক ও ঐতিহাসিক ভাষাবিজ্ঞান', 'শিল্পকলার বিমানবিকীকরণ ও অন্যান্য প্রবন্ধ', 'দ্বিতীয় লিঙ্গ' ইত্যাদি। এ ছাড়া তিনি বহু শিশুতোষ বই রচনা ও বেশ কয়েকটি বই সম্পাদনা করেছেন।