ধর্ষণের অভিযোগ

জিআরপি থানার ওসিসহ ৫ পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা

প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০১৯      

খুলনা ব্যুরো

আদালতের নির্দেশে খুলনা রেলওয়ে (জিআরপি) থানার ওসি উছমান গণি পাঠানসহ ৫ পুলিশের বিরুদ্ধে হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগে মামলা হয়েছে। ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে শুক্রবার সকালে জিআরপি থানায় মামলাটি করেন। এর আগে তিনি আদালতে জবানবন্দি দেন। জিআরপি প্রথমে অস্বীকার করলেও গতকাল শনিবার মামলার বিষয়টি স্বীকার করেছে। এদিকে মামলা দায়ের হলেও কোনো আসামিকে এখনও গ্রেফতার করা হয়নি।

রেলওয়ে পুলিশের কুষ্টিয়া সার্কেলের এএসপি ফিরোজ আহমেদ জানান, মামলায় ওসি উছমান গণি, ঘটনার রাতের ডিউটি অফিসার ও অজ্ঞাত ৩ পুলিশ সদস্যকে আসামি করে ওই নারী মামলা করেছেন।

মামলায় ও আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে ওই নারী উল্লেখ করেন, গ্রেফতারের পর ওসি ও ডিউটি অফিসার তাকে প্রচণ্ড মারধর করেন। রাত দেড়টার দিকে তাকে চোখ বেঁধে থানার একটি কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রথমে ওসি, পরে ডিউটি অফিসার ও আরও তিনজন মিলে তাকে কয়েকবার করে ধর্ষণ করেন। এএসপি ফিরোজ গতকাল দুপুরে থানায় এসে সাংবাদিকদের জানান, পাকশী রেলওয়ে  জেলা পুলিশ সুপার নজরুল ইসলামের নির্দেশে তার নেতৃত্বে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি ঘটনার তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। তদন্ত শেষ হতে আরও সময় লাগবে। তদন্তে ওসি বা অন্য কেউ দোষী সাব্যস্ত হলে তাকে সাসপেন্ড এবং গ্রেফতার করা হবে।

এদিকে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে আসা রেলওয়ে পুলিশের এসপি সেহেলা পারভীনের নেতৃত্বাধীন তদন্ত কমিটি তদন্ত শেষে শুক্রবার বিকেলে ঢাকায় ফিরে গেছে।

গত ২ আগস্ট যশোর থেকে ট্রেনে খুলনায় যাওয়ার পথে এক নারীকে (৩০) আটক করে খুলনা জিআরপি থানা। তার অভিযোগ, ওই রাতে থানার হাজতে ওসিসহ ৫ পুলিশ সদস্য তাকে মারধর ও ধর্ষণ করে। পরদিন তাকে ৫ বোতল ফেনসিডিলসহ গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

গত ৪ আগস্ট ওই নারী খুলনা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আইনজীবীর মাধ্যমে জামিনের আবেদন ও তাকে গণধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন। আদালত তার জবানবন্দি গ্রহণ করে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশে ৫ আগস্ট তার ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়।