পুঁজি সংকটে জয়পুরহাটের চামড়া ব্যবসায়ীরা

পাওনা পরিশোধ করেননি ট্যানারি মালিকরা

প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০১৯      

শাহারুল আলম, জয়পুরহাট

উত্তরের সীমান্ত জেলা জয়পুরহাটের চামড়া ব্যবসায়ীরা এবার মূলধন সংকটে পড়েছেন। তবুও তারা কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে মোকামগুলোতে জোরেশোরেই ধোয়ামোছার কাজ করছেন। কোরবানির ঈদে এখান থেকে প্রায় ১০০ কোটি টাকার পশুর চামড়া ঢাকার ট্যানারিগুলোতে সরবরাহ করেন ব্যবসায়ীরা। তাদের অভিযোগ, ট্যানারি মালিকরা কয়েক বছরের পাওনা টাকা এখনও পরিশোধ করেননি। ফলে এবারও নতুন চামড়া কিনতে পুঁজি সংকটে পড়তে হবে তাদের। তাছাড়া চামড়া পাচার নিয়েও শঙ্কিত তারা। তবে পাচার প্রতিরোধে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলে জানান জয়পুরহাট-২০ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল রাশেদ মোহাম্মদ আনিসুল হক।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ট্যানারি মালিকদের কাছ থেকে টানা কয়েক বছরের পাওনা টাকা না পেলেও কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে জেলার পাঁচবিবির রেলগেট, আক্কেলপুরের হাজিপাড়া, জয়পুরহাট শহরের আরাফাত নগর এবং আমতলী বাজার এলাকায় আড়তগুলোতে চলছে চামড়া কেনার প্রস্তুতি। এ ঈদে ট্যানারিগুলো ছাড়া ঢাকা, খুলনা, যশোরসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা এসে গরু, ভেড়া ও ছাগলের চামড়া কেনেন। অতীতের হিসাব ভুলে তারা আবার ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন। এবার ঢাকার বাইরে ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন গরুর চামড়া প্রতি বর্গফুট ৩০ টাকা থেকে ৩৫ এবং খাসির চামড়া প্রতি বর্গফুট ১৩ থেকে ১৫ টাকা হিসেবে দর নির্ধারণ করেছেন। ট্যানারি মালিকদের বেঁধে দেওয়া দামের চেয়ে মৌসুমি ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত দামে চামড়া কেনায় তখন বিপাকে পড়েন মূল ব্যবসায়ীরা। সীমান্ত জেলা হওয়ায় চামড়া পাচারের আশঙ্কাও থাকে এ অঞ্চলে। সেই সঙ্গে চামড়ার প্রধান কাঁচামাল লবণের দাম এবং শ্রমিকের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা লোকসানের সম্মুখীন হন।

জয়পুরহাটের চামড়া ব্যবসায়ী শামীম হোসেন জানান, কোরবানিকে সামনে রেখে তারা আড়তগুলো ধোয়ামোছা করছেন। গতবারের চামড়ার টাকা এখনও ট্যানারির মালিকদের কাছে পাওনা রয়েছে। চামড়ার বাজারে মন্দাভাব বিরাজ করায় লাভের মুখ দেখতে পারেননি কয়েক বছর ধরে। তিনি আরও বলেন, একদিকে লোকসান, অন্যদিকে বকেয়া। এভাবে তাদের মূলধন শেষের পথে। ব্যাংক ঋণ পরিশোধ করতে না পারায় নতুন করে ঋণও দিচ্ছে না তারা। ফলে আসন্ন ঈদে নতুন  করে চামড়া কেনা মুশকিল হয়ে পড়বে। ট্যানারি মালিকরা সব সময় সিন্ডিকেট করে চামড়া কেনেন এবং দাম পরিশোধের বেলাতেও সিন্ডিকেট করে অল্প অল্প করে টাকা দেন, যা দিয়ে তারা ব্যবসা চালাতে পারছেন না। চামড়া ব্যবসায়ী অহেদুল হোসেন ছোটন বলেন, লবণের দাম স্থিতিশীল। চামড়া পাচার রোধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিলে চামড়াশিল্প লাভের মুখ দেখবে এবার।

কোরবানির আগেই পুঁজি সরবরাহ করে চামড়াশিল্পকে সচল রাখবেন ট্যানারি মালিকরা এমন আশাবাদ ব্যক্ত করে জেলা চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি নবাব সরদার জানান, দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি চামড়াশিল্প। এর প্রসারে লবণের দাম স্থিতিশীল রাখাসহ চামড়া পাচার রোধ এবং সেই সঙ্গে বকেয়া টাকা পরিশোধের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিলে এ শিল্প টিকে থাকবে।

জয়পুরহাট-২০ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল রাশেদ মোহাম্মদ আনিসুল হক জানান, ২০ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধীনে সীমান্ত এলাকা রয়েছে প্রায় সাড়ে ৪১ কিলোমিটার। এর মধ্যে ২২ কিলোমিটার এলাকা কাঁটাতারে ঘেরা। ১৮ কিলোমিটার সীমান্তে কাঁটাতার নেই। চোরাকারবারিরা মূলত এই জায়গাটিকেই তাদের পাচারের পথ হিসেবে ব্যবহার করে থাকে। এই জায়গাগুলো সব সময় নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে। চামড়া পাচার রোধে সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছেন তারা।