বরিশালে শেষ দিনে বাজিমাতের আশায় ক্রেতা-বিক্রেতা

প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০১৯      

বরিশাল ব্যুরো

পশুর হাটে গরু-ছাগল পর্যাপ্ত। ক্রেতাও আছে বেশ। কিন্তু বেচাকেনা হচ্ছে না তেমন। গতকাল শনিবার সকাল সোয়া ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত প্রায় দেড় ঘণ্টা বরিশাল-ঝালকাঠির সীমান্ত এলাকা সুগন্ধীয়ার পশুর হাটে অবস্থান করে এ চিত্র দেখা যায়। ওই সময়ের মধ্যে মাত্র পাঁচ থেকে সাতটি গরু বিক্রি হতে দেখা যায়। এর কারণ হিসেবে জানা গেছে, গরু-ছাগলের দাম ছাড়ছেন না ব্যবসায়ীরা। বরিশালের প্রায় সব পশুর হাটে একই চিত্র। ক্রেতা ও পশু দুটিই পর্যাপ্ত, শুধু বিক্রি কম। আজ রোববার শেষ দিনে বাজিমাতের অপেক্ষায় আছেন ক্রেতা ও বিক্রেতারা।

সুগন্ধীয়ার পশুর হাটে মাঝারি আকারের পশুর দাম চাওয়া হয় ৭৫ হাজার টাকা। ক্রেতা ব্যাংকার মাসুদ আহমেদ ৫৫ হাজার টাকা বললেও নড়চড় ছিল না বিক্রেতা হালিম মিয়ার। পাশের অপর একটি গরুর দাম ৭৫ হাজার টাকা বলেন ব্যবসায়ী মনির হোসেন। কিন্তু বিক্রেতার সাফ কথা, ৮৫ হাজার টাকার কমে বিক্রি করবেন না। এমন একাধিক বেচাকেনার দৃশ্য দেখার একপর্যায়ে ঝুম বৃষ্টি নামলে সুগন্ধীয়ার পশুর হাটে বিক্রেতাদের হতাশ হতে দেখা যায়। ওই হাটে কোরবানির গরু কিনতে আসা রশিদ মিয়া নামের ষাটোর্ধ্ব এক বৃদ্ধ বলেন, খাজনামুক্ত হাট হওয়া সত্ত্বেও দাম চড়া এখানে। প্রতিটি গরুতে পার্শ্ববর্তী গুয়াচিত্রা হাটের তুলনায় এ হাটে পাঁচ থেকে সাত হাজার টাকা বেশি চাওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, প্রায় সব হাটেই গত বছরের তুলনায় এখন পর্যন্ত গরুর দাম বেশি। ক্রেতাদের ভাষ্যমতে, শনিবার বিকেল না গড়ালে গরু-ছাগলের দাম কমবে না।

এর আগে শনিবার সকালে বরিশাল নগরীর চৌমাথা ব্রিজের নিচে সিঅ্যান্ডবি সড়কে অস্থায়ী হাটে দেখা গেছে গরু-ছাগলের সরবরাহ বেশ ভালো। এ হাটে উত্তরাঞ্চলের পশুর সংখ্যাই বেশি। হুমায়ুন কবির নামের একজন শিক্ষক ছোট আকারের গরুর দাম ৪৫ হাজার টাকা বলেন। তবে বিক্রেতা দাম চান ৬৫ হাজার টাকা। পাশের আরেকটি গরুর দাম ৯৫ হাজার টাকা চাওয়া হলেও ক্রেতাদের আগ্রহ নেই।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চরমোনাই পশুর হাট, বোয়ালিয়া, রূপাতলী, বাঘিয়াসহ বিভিন্ন হাটে প্রচুর গরু উঠেছে। ক্রেতার ভিড়ও বাড়ছে। বড় গরুর দাম চাওয়া হচ্ছে এক লাখ থেকে সোয়া লাখ টাকার মধ্যে। আজ রোববার শেষ মুহূর্তে হাটের চিত্র কোন দিকে মোড় দেয়, তা নিয়ে হিসাব কষছেন ক্রেতারা। এবার নগরী ও বরিশালের ১০ উপজেলায় ৬৫টি স্থানে কোরবানির পশুর হাট বসছে।