কামারদের ব্যস্ততা তুঙ্গে

কাল ঈদ

প্রকাশ: ১১ আগস্ট ২০১৯      

দেলওয়ার হোসেন

আগামীকালই ঈদুল আজহা। তাই কামাররা মাংস কাটার উপকরণ তৈরিতে পার করছেন বছরের সবচেয়ে ব্যস্ত সময়। দিনরাত টুং টুং শব্দে কাজ করছেন তারা। তাদের দোকানগুলোতেও বেড়েছে মৌসুমি কর্মচারী। গরু কেনার পাশাপাশি অনেকেই ছুটছেন ছুরি-চাপাতিসহ মাংস বানানোর অন্যান্য যন্ত্রপাতির খোঁজে। আজ এসব যন্ত্রপাতি প্রচুর বিক্রি হবে বলে আশা কামারদের।

কারওয়ান বাজারের কর্মকার মার্কেটে গিয়ে দেখা যায় কামাররা ব্যস্ত। মার্কেটের সামনে রাস্তার দু'পাশে লাইন ধরে ছুরি-চাপাতি-হাতুড়ি-দা-বঁটির অনেক দোকান। পাশে কামারপট্টির গলিতে ময়মনসিংহ, ফরিদপুর ও বরিশালের কাঠ ব্যবসায়ীরা নিয়ে এসেছেন কাঠের খাটিয়া, বা মাংস কাটার বোর্ড। আকারভেদে এর দাম ২০০ থেকে ৫০০ টাকা। এদিকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এসএমএসের মাধ্যমে জানিয়েছে, কোরবানির সময় সঠিক ছুরি ব্যবহার না করায় প্রায় ৩৩০ কোটি টাকার চামড়া নষ্ট হয়। 'চামড়া ছাড়াতে বাঁকানো মাথার ছুরি ব্যবহার করি, চোখা ছুরি পরিহার করি'। সরকারের এই এসএমএসকে গুরুত্ব দিয়ে সচেতন মানুষ পছন্দমতো ছুরি খুঁজছেন।

কোরবানির আগে শনি ও রোববার প্রচুর বিক্রি হবে বলে শুক্রবার টুং টুং শব্দ তুলে তৈরি হচ্ছিল একেকটি ধারালো উপকরণ। ব্যস্ততার ফাঁকে কামার আব্দুল আজিজ বলেন, তার বাড়ি লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায়। তিনি ৫১ বছর ধরে কারওয়ান বাজারে এই কাজ করছেন। আজিজ বলেন, ১৫ দিন আগেই অর্ডার পাওয়া শুরু করেছি। বছরের অন্য সময়ের তুলনায় এ সময় দামও কম রাখা হয় বলে জানান তিনি।

পাশের দোকানের কামার বজলুর রহমান বলেন, কেজি হিসেবে এখানে এসব উপকরণ বিক্রি হয়। চাপাতি কেজি হিসেবে মানভেদে দাম ৪০০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত। পিস হিসেবে বিক্রি হয় ছুরি। দাম ৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত। আর দা-বঁটিরও কেজি হিসেবে দাম ৪০০ থেকে ৭০০ টাকা। কাঠপট্টির এই কামারের দোকানেই কথা হয় কামালের সঙ্গে। দোকান থেকে না কিনে নিজেই কামারের কাছে চলে এসেছেন তিনি। পছন্দমতো বানিয়ে নেবেন। তবে কারওয়ান বাজারের এই কামারপট্টি থেকে খুচরা বিক্রি ছাড়াও পাইকারি বিক্রি হয়। কথা হয় ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার কাঠের ব্যবসায়ী মাহফুজের সঙ্গে। প্রতি বছর কোরবানির আগে তিনি কয়েক হাজার খাটিয়া নিয়ে আসেন। আকারভেদে প্রতিটি খাটিয়া ২০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করেন।

ভোলা সদর কর্মশালের লোহার দোকানে আমির হোসেন একটি বঁটিতে ধার দিচ্ছিলেন। তিনি বলেন, 'নতুন জিনিস তো কেনেই। তয় আগেরবার যারা কিইন্না নিছেন, তারা এইবার ধারায়ে নিতাছেন।'

নারদ দেব কমর্কার জানান, গত চার-পাঁচ বছরে শ্রমিকের মজুরি কয়েকগুণ বেড়েছে। শুধু শ্রমিকের মজুরিই নয়, লোহা, কয়লার দামও বেড়েছে। তাই তাদের দা, ছুরি, কুড়াল, চাকুসহ কোরবানির মাংস কাটার অন্যান্য জিনিসের দাম বাড়তি নিতে হচ্ছে।