ডেঙ্গু জ্বরে ঢাবি ছাত্র স্বাধীনের মৃত্যু

স্বপ্ন পূরণ হলো না কৃষক বাবার

প্রকাশ: ২৮ জুলাই ২০১৯      

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

 স্বপ্ন পূরণ হলো না কৃষক বাবার

ডেঙ্গু কেড়ে নিয়েছে ঢাবির ফিন্যান্স বিভাগের ছাত্র ফিরোজ কবীর স্বাধীনের জীবন- সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ফিন্যান্স বিভাগের শিক্ষার্থী ফিরোজ কবীর স্বাধীনের মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না তার বাবা। ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া স্বাধীনের বাবা দবিরুল ইসলাম একজন কৃষক। নিভৃত গ্রামের এই কৃষকের চার ছেলেমেয়ের মধ্যে স্বাধীন সবার ছোট। দুই মেয়ে ও বড় ছেলেকে বিয়ে দিয়েছেন অনেক আগে। দবিরুল নিজে আর বড় ছেলে মিলে জমি চাষ করে স্বাধীনের পড়ার খরচ চালাতেন। আশা ছিল, ছেলে 'বড় সাহেব' হবে। এলাকায় বাবার মুখ উজ্জ্বল করবে। কৃষক দবিরুলের স্বপ্ন কেড়ে নিল ডেঙ্গু নামের ঘাতক।

স্বাধীন ফিন্যান্স বিভাগের ২৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হলের আবাসিক ছাত্র। তিনি এমবিএ পরীক্ষা শেষ করে ফলের অপেক্ষায় ছিলেন। তার বাড়ি ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আখানগর ইউনিয়নের মহেশপুর মুন্সিপাড়া গ্রামে। গতকাল ওই বাড়িতে গিয়ে গভীর শোকাবহ পরিবেশের মুখোমুখি হতে হয়েছে। কাঁদছিলেন স্বাধীনের বাবা ও পরিবারের সদস্যরা। কান্নাকাতর কণ্ঠে দবিরুল ইসলাম বলেন, স্বপ্ন ছিল ছেলেটা ব্যাংকার হবে। এলাকার মানুষের বিপদ-আপদে সাহায্য করবে। কিন্তু অকালে আমাদের ছেড়ে চলে গেল! স্বাধীনের সহপাঠী বেলাল হোসেন জানান, গত ১৮ জুলাই স্বাধীন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়। অন্য সহপাঠীদের সহায়তায় ২২ জুলাই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তার পরিবার ২৪ জুলাই তাকে গুরুতর অবস্থায় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানেই শুক্রবার রাত ৯টার সময় স্বাধীন মারা যান। স্বাধীনের আরেক বন্ধু শরীফুল ইসলাম বলেন, 'ওর মৃত্যু  কোনোভাবেই আমরা মেনে নিতে পারছি না। সে খুবই ভালো ছেলে ছিল। কোনোদিন কারও সঙ্গে তার দ্বন্দ্ব হতে দেখিনি। বিভাগে তার খুব ভালো রেজাল্ট ছিল। তার পরিবারের অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো ছিল না। খুব কষ্ট করে সে এ পর্যন্ত এসেছে।'

তবে স্বাধীনের পরিবারের অনেকে জানান, স্বাধীন রোজার ঈদের সময় থেকে জ্বরে ভুগছিলেন। মাঝেমধ্যেই জ্বর বেড়ে যেত। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে স্বাধীনের চাচাতো ভাই আনোয়ার হোসেন বলেন, 'আমাদের ভাই তো চলে গেল। তার মতো আর কোনো শিক্ষার্থী যেন অকালে না চলে যায়, সে জন্য সবাইকে সচেতন হতে হবে।'

শনিবার বিকেলে নিজ গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে ফিরোজ কবীর স্বাধীনের দাফন সম্পন্ন হয়। স্বাধীনের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। বাড়িতে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন উপস্থিত হয়ে স্বাধীনের পরিবারকে সমবেদনা জানান।