আজ প্রকৃতি সংরক্ষণ দিবস

'উন্নয়ন হতে হবে পরিবেশবান্ধব'

প্রকাশ: ২৮ জুলাই ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

বিশ্বজুড়ে বাড়ছে উষ্ণতা। বদলে যাচ্ছে ঋতুর প্রকৃতি। এর পেছনে অন্যতম দায় মানুষের। বনভূমি ধ্বংস, নদীনালা দূষণের কারণে কমছে জীববৈচিত্র্য। সংকটের মুখে সুজলা সুফলা এই ধরিত্রী। পরিবেশ ও প্রতিবেশকে বাঁচাতে হলে তাই প্রকৃতিকে রক্ষার বিকল্প নেই। এ লক্ষ্যে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে আজ রোববার পালিত হচ্ছে বিশ্ব প্রকৃতি সংরক্ষণ দিবস। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে দিবসটির গুরুত্ব অপরিসীম। কারণ, ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ উন্নত দেশের কাতারে যেতে চায়। এ লক্ষ্যে অবকাঠামোগত ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে। কিন্তু এসব কর্মযজ্ঞে পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিবেশবান্ধব না হলে তা টেকসই হবে না।

পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর মতে, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সমস্যায় বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর তালিকায় বাংলাদেশ শীর্ষে। দূষণ ও দখলে এ দেশের বন, নদী ও পরিবেশের অবস্থা সঙ্গিন। ফলে এ দেশের জীব ও জীবন দুটোই ভয়াবহ সংকটের মুখে রয়েছে। দিন দিন বনের পরিমাণ কমছে। শিল্পায়ন ও জনবসতি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ধ্বংস হচ্ছে বনাঞ্চল ও গ্রামীণ প্রাকৃতিক পরিবেশ। কমছে কৃষিজমি। অন্যদিকে কলকারখানা ও মানুষের নানা কর্মকাণ্ডে নদী ও জলাভূমিগুলো দূষিত হচ্ছে। ধ্বংস হচ্ছে মাছসহ জলজ প্রাণীদের আবাসস্থল। মানুষ তথা জীববৈচিত্র্য বাঁচাতে প্রকৃতির প্রতি সদয় হতে হবে। তবে মূল ভূমিকা পালন করতে হবে সরকারকে- এমনটাই দাবি পরিবেশবিদদের।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংবিধানেই পরিবেশ ও প্রকৃতি সংরক্ষণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের সংবিধানে ১৮(ক) অনুচ্ছেদে বলা আছে- রাষ্ট্র বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নাগরিকদের জন্য পরিবেশ সংরক্ষণ ও উন্নয়ন করবে এবং প্রাকৃতিক সম্পদ জীববৈচিত্র্য, জলাভূমি, বন ও বন্যপ্রাণীর সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা বিধান করবে। তাই প্রকৃতি সংরক্ষণ সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সাধারণ সম্পাদক ডা. আব্দুল মতিন বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত মারাত্মক ঝুঁকির মুখে বাংলাদেশ। এ দেশের পরিবেশ ও প্রকৃতির ক্ষতির জন্য বড় বড় শিল্পোদ্যোক্তারা যেমন দায়ী, তেমনি দায় রয়েছে সরকারের। তিনি বলেন, উন্নয়ন প্রয়োজন তবে তা হতে হবে পরিবেশবান্ধব।