গল্প-গানে শিল্পী শুভেন্দু মাইতি

প্রকাশ: ২৮ জুলাই ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

শিল্পী শুভেন্দু মাইতি আগেও বহুবার এসেছেন গান গাইতে। এবারও গান গাইলেন। তবে তার আগে শোনালেন গল্প। জীবনের গল্প, সমাজের গল্প। যাতে গীত হলো বাঙালির জয়গান। বাংলা ভাষা, বিশ্ববাঙালি, বাংলা চর্চা তো বটেই, আলাপনে উঠে এলো বাংলাদেশ। আহ্বান জানালেন মানুষের ভেতরের স্বপ্নকে আশ্রয় দেওয়ার। তার ভাষায়, মা বলতেন স্বপ্ন হলো বটফলের বীজের মতো। এত ক্ষুদ্র যে তার বীজ দেখা যায় না। কিন্তু তার ভেতরে অদ্ভুত এক শক্তি আছে। একটু আশ্রয় পেলেই তা পাহাড়ে হোক, অরণ্যে হোক বেড়ে উঠবে। স্বপ্নও ঠিক তাই। সে শুধু একটু আশ্রয় চায়। কথাগুলো বলার একটু আগেই শুভেন্দু মাইতি শুধু হারমোনিয়াম নিয়ে গাইলেন 'স্বপ্ন দেখার  সাহস করো/স্বপ্ন ছাড়া মানুষ বাঁচে নাকি' গানটি।

ছায়ানট মিলনায়তনে গতকাল শনিবার বৃষ্টিস্নাত বিকেলে কৃষ্টি ফাউন্ডেশনের প্রথম আয়োজন 'বাংলা গানের পরম্পরায় গান গল্পে' শীর্ষক আয়োজনে ছিলেন ওপার বাংলার গণসঙ্গীত শিল্পী শুভেন্দু মাইতি। কথা বলার ফাঁকে ফাঁকে শুনিয়েছেন তার প্রিয় সব গান। অনুষ্ঠানের শুরুতেই বক্তব্য দেন কৃষ্টি ফাউন্ডেশনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বুলবুল মহলানবীশ ও সাধারণ সম্পাদক  এনায়েত কবির।

কথামালায় শুভেন্দু মাইতি বললেন, আকাশ কেনা হয়ে গেছে। আকাশের মালিকানা আছে কিন্তু মহাকাশের মালিকানা নেই। বাঙালিকে সেই মহাকাশে জায়গা নিতে হবে। জায়গা নিয়ে বিশ্বের সব বাঙালিকে ওয়েব দুনিয়ার মধ্যে একত্রিত করতে হবে। শেকড়ে পা রেখে বাংলাকে সারা পৃথিবীতে মেলে ধরতে হবে। লোকসঙ্গীত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, লোক সংস্কৃতি হচ্ছে, আটপৌরে মায়ের মতো। এটা স্টুডিওতে বসে সাজানো গান গাইবার জিনিস নয়।

এরপর আবার গানের পালা। এ পর্যায়ে ওপার বাংলার ভাদু গানের সুরে গান 'যখন একা থাকি দিশেহারা বড় একা লাগে/সবার সাথে থাকি যখন গো বুকের ভিতর ঢেউ জাগে/একা পথ হাঁটি যখন গো পথ ফুরতো চায় না যে/আবার সবার সাথে হাঁটি যখন পায়ে চলার সুর বাজে।'

আপন পথের যাত্রীতে পাঁচ বাচিকশিল্পী :আয়োজনের শিরোনাম- 'আপন পথের যাত্রী'। আবৃত্তি সংগঠন সংবৃতার নিয়মিত আয়োজন। যার চতুর্থ পর্ব ছিল গতকাল শনিবার। রাজধানীর কেন্দ্রীয় গণগ্রন্থাগারের শওকত ওসমান স্মৃতি মিলনায়তনে এতে অংশ নেন পাঁচ তরুণ বাচিকশিল্পী সামসুজ্জামান বাবু, সুলতানা ইয়াসমিন রিমু, তরিকুল ফাহিম, নূর-ই-জান্নাত জুইন এবং ত্রপা চক্রবর্তী।

শুরুতেই ত্রপা চক্রবর্তী পাঠ করে শোনান মহাদেব সাহার 'ফিরে দাও রাজবংশ' কবিতাটি। এরপর প্রায় দুই ঘণ্টার আয়োজনে তিনি আরও পাঠ করেন বুদ্ধদেব বসুর 'কবি মশাই', শুভদাস গুপ্তের 'আমি সেই মেয়ে', অরুণ সরকারের 'আসল রাজা' ও রবীন্দ্রনাথের 'স্ত্রীর পত্র'।

সামসুজ্জামান বাবু পাঠ করেন দাউদ হায়দারের 'সেই কথা বলা হলো না', কাজী নজরুল ইসলামের 'অভিভাষণ :যদি আর বাঁশি না বাজে', ভাস্কর চৌধুরীর 'আমার বন্ধু নিরঞ্জন', আশরাফুল আলমের 'রণাঙ্গণের চিঠি' ও সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের 'যদি

নির্বাসন দাও'।

সুলতানা ইয়াসমিন রিমু পাঠ করেন রুদ্র মুহম্মদ শহিদুল্লাহর 'জীবন যাপন ২', মিনার মনসুরের 'কি জবাব দেবো', রফিক আজাদের 'প্রতীক্ষা', শামসুর রাহমানের 'যদি আর ফিরে না আসো' ও রিয়াজ মাহমুদের 'রেণুর জন্য শোকগাথা'।

তরিকুল ফাহিম পাঠ করেন আবুল হাসানের 'আমি অনেক কষ্টে আছি', হুমায়ুন আজাদের 'বিজ্ঞাপন : বাংলাদেশ ১৯৮৬', সৈয়দ শামসুল হকের 'নূরলদীনের সারাজীবন', রবিউল হুসাইনের 'দুইটি নদীর গল্প' ও মাহবুবুল আলমের 'স্বাধীনতা তুমি কার স্বাধীনতা'।

নূর-ই-জান্নাত জুইন পাঠ করেন কাজী নজরুল ইসলামের 'মন্দির ও মসজিদ', সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের 'না পাঠানো চিঠি', অনিন্দ্য অমাতের 'চেতনা যখন খাবার টেবিলে',

শুভদাস গুপ্তের 'নাগরদোলা' ও মহাদেব সাহার 'নিজস্ব অ্যালবাম'।

এ ছাড়া তরিকুল ফাহিম ও ত্রপা চক্রবর্তী দ্বৈত কণ্ঠে পাঠ করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'শেষের কবিতা'র অংশ বিশেষ।