ঢাবিতে ডেঙ্গুর প্রকোপ ক্যাম্পাস বন্ধের দাবি

প্রকাশ: ২৮ জুলাই ২০১৯      

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বেড়েই চলেছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা একশ'র কাছাকাছি। এ সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ফেসবুক গ্রুপ 'স্বপ্নের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়' এর চালানো জরিপে এই তথ্য উঠে এসেছে। যেখানে বিভিন্ন হলে ডেঙ্গু আক্রান্ত শিক্ষার্থীদের হলের নাম, আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা এবং রুম নম্বর উল্লেখ করা হয়েছে। এদিকে ডেঙ্গুর প্রকোপ আরও ভয়াবহ হতে পারে দাবি করে জরুরি ভিত্তিতে ক্যাম্পাস বন্ধের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

জরিপে দেখা গেছে, গতকাল শনিবার রাত ১০টায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলে ও মেয়েদের হলে মোট ৮৬ শিক্ষার্থী ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ছেলেদের ১২টি হলে আক্রান্ত হয়েছেন ৭৯ জন। মেয়েদের তিনটি হলে আক্রান্ত হয়েছেন ৭ জন।

ছেলেদের হলে আক্রান্তদের মধ্যে ফজলুল হক মুসলিম হলের ১০১৭নং রুমে ৫ জন, ১০১৫নং রুমে ৫ জন। শহীদুল্লাহ হলের ১১০২নং রুমে ৩ জন। অমর একুশে হলের ৫০৩নং রুমে (সালাম) একজন। সূর্য সেন হলের ১৭৯নং রুমে (লাদেন গুহা) ৭ জন, ২২৬নং রুমে ২ জন এবং ২৩০, ২৩৪নং রুমে আরও ২ জন। কবি জসীমউদদীন হলের ৫৩১নং রুমে ২ জন ও ১১৩নং রুমে একজন। বঙ্গবন্ধু হলের ১১৩নং রুমে ৯ জন এবং ৪২০নং রুমে একজন। জিয়া হলের ৪২২নং রুমে একজন ও ২২৫, ২২৬, ২২৭নং রুমে ৬ জন এবং ৪২২নং রুমে একজন। সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের বারান্দায় থাকাদের মধ্যে ৫ জন (আরও অনেকেই আক্রান্ত)। জহুরুল হক হলের ৬নং রুমে ৪ জন এবং ১০১৩নং রুমে ২ জন। জগন্নাথ হলের ২৪৯ ও ৪৪৮নং রুমে ২ জন এবং ২০০৪নং রুমে একজন। হাজী মুহাম্মদ মুহসীন হলের ৩৫২নং রুমে একজন। স্যার এ এফ রহমান হলের ৫২২নং রুমে একজন। বিজয় একাত্তর হলের পদ্মা ব্লকের ৭০০৩নং রুমে একজন, ৬০০৬নং রুমে একজন, ৬০১২নং রুমে একজন, ২০০৭নং রুমে একজন, ৯০০৬নং রুমে একজন। যমুনা ব্লকের ৩০১০নং রল্ফম্নমে ১জন রুমে একজন, ৬০০৯নং রুমে একজন। বিজয় একাত্তর হল ছাড়াও আরও ১৩ জনের আক্রান্তের কথা শোনা গেলেও তাদের রুম নম্বর জানা যায়নি। এদিকে মেয়েদের হলে আক্রান্তদের মধ্যে রয়েছেন বঙ্গমাতা  শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের ৫২১নং রুমে একজন, শামসুন নাহার হলের ১০০২নং রুমে একজন, ১০০৬নং রুমে একজন। কবি সুফিয়া কামাল হলের ৮০৫নং রুমে একজন, ৮০৪নং রুমে একজন, ৮০৬ রুমে একজন, ৮০২নং রুমে একজন ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত।

বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারের প্রধান (ভারপ্রাপ্ত) মেডিকেল অফিসার ডা. সারওয়ার জাহান মুত্তাকী বলেন, প্রতিদিনই ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে শিক্ষার্থীরা মেডিকেলে যাচ্ছেন। মেডিকেলের ওয়ার্ডে গেলেই দেখা যায় কী হারে শিক্ষার্থীরা আক্রান্ত হচ্ছেন।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ডেঙ্গুর এমন পরিস্থিতিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্যাম্পাস বন্ধ ঘোষণা করার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে সলিমুল্লাহ হলের আবাসিক শিক্ষার্থী মনজুরুল ইসলাম উপাচার্যকে উদ্দেশ করে বলেন, 'মাননীয় উপাচার্য, যে ছেলেদের বাসা থেকে টাকা নেওয়ার জন্য সাত দিন আগে বাসায় টাকার কথা বলতে হয়, তাদের ডেঙ্গু হলে তারা কি করবে একবারও কি ভেবেছেন? তাই দ্রুত ক্যাম্পাস বন্ধ করে দিলেই বাঁচতে পারবে হাজারো স্বপ্নদেখা মানুষগুলোর স্বপ্নের সন্তানগুলো।'

সূর্য সেন হলের শিক্ষার্থী তুহিন ইমরান ক্যাম্পাস বন্ধের দাবি জানান। এ বিষয়ে সূর্য সেন হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক মকবুল হোসেন বলেন, ১৭৯নং কক্ষে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার খবর শোনামাত্রই তিনি হাউজ টিউটরদের দেখাশোনা করার জন্য পাঠিয়েছেন। আর সবাইকে নিয়ে তিনি এ বিষয়ে কাজ করছেন। আজ রোববার এ বিষয়ে একটি মিটিং রয়েছে।

এ বিষয়ে কথা বলতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

এদিকে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে শুক্রবার মারা যান বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের শিক্ষার্থী ফিরোজ কবীর স্বাধীন। গতকাল দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ চত্বরে ফিরোজের গায়েবানা জানাজা হয়।

ক্যাম্পাস বন্ধের দাবির বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক একেএম গোলাম রব্বানী বলেন, ক্যাম্পাস বন্ধ করা কোনো সমাধান নয়। আক্রান্তদের চিকিৎসা দরকার। নানা দিক থেকে ডেঙ্গু আক্রান্তরা আসছেন। এর মধ্যেও ঢাকা মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিশেষভাবে ভর্তি করাচ্ছে।

ডেঙ্গুর এমন পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে রোববার (আজ) রক্তের প্লাটিলেট গণনার যন্ত্র আনা হচ্ছে জানিয়ে প্রক্টর বলেন, হল প্রশাসনগুলোকে আক্রান্ত শিক্ষার্থীদের ব্যাপারে খোঁজ নিতে বলা হচ্ছে। মশানিধনে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।