প্রাইভেটকারে যাত্রী বহনের নামে সব কেড়ে নেয় ওরা

প্রকাশ: ২৮ জুলাই ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

সকাল বা বিকেলের ব্যস্ত সময়ে নগরীর কোনো গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে দাঁড়িয়ে বাসের জন্য অপেক্ষা করছেন। দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানো দরকার। একটু পরপর বাস আসছে। তবে সেগুলোয় ওঠার অবস্থাও নেই। সুযোগ বুঝে সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক নির্ধারিত ভাড়ার তিন গুণ টাকা চেয়ে বসলেন। এমন পরিস্থিতিতে যখন আপনি ক্ষুব্ধ-বিরক্ত, তখনই পাশে এসে দাঁড়াল একটি ফাঁকা প্রাইভেটকার। চালক জানালা দিয়ে মুখ বাড়িয়ে জানতে চাইলেন, 'কোথায় যাবেন?' নামমাত্র ভাড়ায় তিনি গন্তব্যে পৌঁছে দিতে রাজি হলে আপনি হাঁফ ছেড়ে বাঁচলেন। সাবধান! এরপরই ঘটে আসল ঘটনা। চলন্ত গাড়িতে যাত্রীবেশে ওঠা ছিনতাইকারীরা মারধর করে কেড়ে নেয় টাকা-মোবাইল ফোনসহ সর্বস্ব। এমনকি বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তারা খুন করতেও দ্বিধা করে না।

সম্প্রতি এমন একটি ঘটনার সূত্র ধরে ছিনতাইয়ে জড়িত এই চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পশ্চিম বিভাগ। তারা হলো বজলু আলমগীর, মাসুম বিল্লাহ, মুক্তার হোসেন ও আলী। গত শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছে পাওয়া গেছে ছিনতাইয়ে ব্যবহূত প্রাইভেটকার, চাকু, লাঠি ও রড। এ ছাড়া তাদের দেওয়া তথ্যে লুণ্ঠিত টেলিভিশন, মোবাইল ফোন ও পুলিশের পোশাক উদ্ধার করা হয়েছে। ছিনতাইকারীদের গ্রেফতারের বিষয়ে জানাতে গতকাল শনিবার দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে ডিবির যুগ্ম কমিশনার মাহবুব আলম জানান, কে এম নূর-ই-আলম নামের একজন এসআই গত ১৭ জুলাই এলইডি টিভি, মোবাইল ফোন, দুই সেট পুলিশ ইউনিফর্ম, অন্যান্য পোশাক ও প্রায় তিন হাজার টাকা নিয়ে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। রাত সোয়া ১টার দিকে তিনি কোনো বাস না পেয়ে মহাখালীর আমতলীতে দাঁড়িয়েছিলেন। এ সময় একটি প্রাইভেটকার তার সামনে এসে দাঁড়ায়। গাড়িটি নেত্রকোনা পর্যন্ত যাবে বলে জানালে নূর-ই-আলম তাতে ওঠেন। এর পরপরই গাড়ির পেছনের দুই দরজা দিয়ে দু'জন উঠে বসে এবং তাকে মাঝখানে রেখে হাত-পা-চোখ বেঁধে ফেলে। এক স্থানে থেমে তার মানিব্যাগে থাকা এটিএম কার্ড দিয়ে টাকা তোলার চেষ্টা চালায় ছিনতাইকারীরা। তবে অ্যাকাউন্টে কোনো টাকা না থাকায় তাকে ব্যাপক মারধর করে। পরে মালপত্র ও টাকা রেখে তাকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় প্রাইভেটকার থেকে ফেলে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় বনানী থানায় মামলা হয়।

ডিবির অতিরিক্ত উপকমিশনার শাহাদাত হোসেন সুমা সমকালকে জানান, ওই মামলার সূত্র ধরে তদন্তে নেমে এই চক্রকে শনাক্ত করা হয়। গ্রেফতারকৃত আলমগীর এ চক্রটির হোতা। সে আগেও একই অপরাধে গ্রেফতার হয়েছিল। এবার তাকে গ্রেফতারের পর আরও ভুক্তভোগীর সন্ধান মিলেছে।