আজ মেজর জিয়াউদ্দিনের মৃত্যুবার্ষিকী

প্রকাশ: ২৮ জুলাই ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

মুক্তিযুদ্ধের ৯ নম্বর সেক্টরের সুন্দরবন সাব-সেক্টর কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) জিয়াউদ্দিন আহমেদের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০১৭ সালের এ দিনে ৬৭ বছর বয়সে সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল হাসপাতালে তিনি ইন্তেকাল করেন। পরে পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তার লাশ পিরোজপুরে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

জিয়াউদ্দিনের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে নিজ এলাকা পিরোজপুরসহ ঢাকায় বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এর মধ্যে পরিবারের পক্ষে পিরোজপুরে সকাল ১০টায় তার কবরস্থানে শ্রদ্ধা নিবেদন ও বিশেষ দোয়া করা হবে। এ ছাড়া পিরোজপুরে জিয়াউদ্দিনের প্রতিষ্ঠিত আফতাবউদ্দিন মহাবিদ্যালয়ে সকাল ১১টায় আলোচনা সভা এবং বাদ জোহর দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার অন্যতম সাক্ষী মেজর জিয়াউদ্দিনের আদি বাড়ি পিরোজপুর জেলার ভাণ্ডারিয়ায়। আইনজীবী বাবা আফতাব উদ্দিন আহমেদের ছেলে জিয়াউদ্দিন ১৯৫০ সালে পিরোজপুর শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৬৯ সালে পাকিস্তান  সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন। একাত্তরের ২০ মার্চ সেকেন্ড লেফট্যানেন্ট হিসেবে ছুটিতে বাড়ি আসেন এবং ২৭ মার্চের পর মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন।

প্রথমে তিনি পিরোজপুর শহরে মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত করেন এবং নবম সেক্টরের অধীনে সুন্দরবনে ঘাঁটি স্থাপন করে ১৪ হাজার মুক্তিযোদ্ধা নিয়ে যুদ্ধ শুরু করেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর প্রথমে ক্যাপ্টেন ও পরে মেজর পদে পদোন্নতি পান। ১৯৭৫ সালের ৩ ও ৭ নভেম্বর পরপর দুটি সেনা অভ্যুত্থানকালে মেজর জিয়া সরকারি কাজে পিরোজপুর শহরে মুক্তিবাহিনী সদস্যদের পুলিশে ভর্তি জন্য পিরোজপুরে ছিলেন। পরে ঢাকায় ফিরে কর্নেল তাহেরের নির্দেশে জেনারেল জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে '৭১ সালের মতো ঘাঁটি স্থাপন করেন। এর পর '৭৬ সালের জানুয়ারিতে পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার মাঝেরচরে তাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে কর্নেল তাহেরসহ মেজর জিয়া এবং জাসদ নেতাদের বিচার হয়। বিচারে কর্নেল তাহেরকে ফাঁসি এবং মেজর জিয়াকে যাবজ্জীবনসহ অন্যদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেন সামরিক আদালত। '৮০ সালে মেজর জিয়াউদ্দিন সাধারণ ক্ষমায় মুক্তি পান এবং জাসদে যোগ দেন। ১৯৮৯ সালে পিরোজপুর পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালে তিনি আওয়ামী লীগে যোগদান করেন এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা কমিটির সদস্য ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে তার কিছু স্মৃতি গ্রন্থ রয়েছে। 'মুক্তিযুদ্ধে সুন্দরবনের সেই উন্মাতাল দিনগুলো', 'সুন্দরবন সমরে ও সুষমায়' যার মধ্যে অন্যতম।