সমাবেশের পর উজ্জীবিত খুলনা বিএনপি

প্রকাশ: ২৮ জুলাই ২০১৯      

খুলনা ব্যুরো

দীর্ঘ প্রায় ছয় বছর পর উন্মুক্ত স্থানে বড় সমাবেশ সফলতার সঙ্গে শেষ করতে পেরে উজ্জীবিত খুলনা মহানগর ও জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা। গত বৃহস্পতিবার নগরীর শহীদ হাদিস পার্কে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে সমাবেশটিতে অংশ নেন হাজার হাজার নেতাকর্মী। বৃষ্টি উপেক্ষা করে তৃণমূল পর্যায় থেকে বড় মিছিল নিয়ে সমাবেশে উপস্থিত হন ওয়ার্ড পর্যায়ের কর্মী ও সমর্থকরা। বিএনপির কোনো কর্মসূচিতে এত বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতি নিকট অতীতে দেখা যায়নি।

কোনো কর্মসূচি না থাকলেও গতকাল শনিবার দলীয় কার্যালয়ে ছিল নেতাকর্মীর ভিড়। সবার মুখেই সমাবেশের সফলতার গল্প। সমাবেশে উপস্থিতির কৃতিত্ব নিজের বলে দাবি করতে ব্যস্ত সময় পারছেন বিএনপির থানা, ওয়ার্ড ও অঙ্গ সংগঠনের নেতারা।

দলীয় কার্যালয়ে কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিএনপির অধিকাংশ নেতাকর্মীই এখন মামলার ভারে জর্জরিত। ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তায় বিগত নির্বাচনের পর থেকে অনেকেই দলীয় কর্মসূচি থেকে দূরে ছিলেন। কিন্তু বৃহস্পতিবার তাদের অনেকেই সমাবেশে এসেছেন। দলের দুঃসময়ে এত ব্যাপক উপস্থিতিতে নেতাকর্মীরা কিছুটা হলেও ভরসা ফিরে পেয়েছেন।

সমাবেশের আয়োজক নগর বিএনপি সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, 'বিএনপি যে একটি জনসম্পৃক্ত দল, তা প্রমাণ হয়েছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে এখনও যে খালেদা জিয়া ও বিএনপির ব্যাপক জনপ্রিয়তা আছে, প্রমাণ পাওয়া গেছে তারও। মানুষ সমাবেশে উপস্থিত হয়ে সরকারকে একটি বার্তা দিয়েছে যে, বিএনপির  জনসমর্থন রয়েছে। মামলা দিয়ে, জেলে আটকে রেখে বিএনপি কর্মীদের মনোবল ভাঙা যাবে না।'

বিএনপির সিনিয়র কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সমাবেশ আয়োজনে বাড়তি কোনো খরচ করতে হয়নি দলটিকে। সাধারণত সমাবেশে নেতাকর্মীদের উপস্থিত করতে স্থানীয় নেতাদের বিপুল অঙ্কের টাকা ব্যয় হয়। কিন্তু এবার ছিল ভিন্ন চিত্র। মামলার চাপে বিপর্যস্ত নেতাকর্মীদের সরব উপস্থিতি সিনিয়র নেতাদেরও আশান্বিত করেছে।

তারা মনে করছেন, দীর্ঘদিন পর নেতাকর্মীরা যেভাবে চাঞ্চল্য নিয়ে সমাবেশে অংশ নিয়েছে, তাতে আগামী দিনে যে কোনো কর্মসূচি সফল করতে সাধারণ নেতাকর্মীদের ওপর আস্থা রাখা যায়।

জেলা বিএনপি সভাপতি শফিকুল আলম মনা বলেন, সমাবেশে এত উপস্থিতি আমাদের ধারণার বাইরে ছিল। এ সমাবেশই প্রমাণ হয়েছে, তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরাই বিএনপির প্রাণ।