মূত্রথলির ক্যান্সার ও করণীয়

প্রকাশ: ২৮ জুলাই ২০১৯      

অধ্যাপক ডা. শেখ গোলাম মোস্তফা, পরামর্শক, রেডিয়েশন অনকোলজি ইউনাইটেড হাসপাতাল

জুলাই মাস, মূত্রথলির ক্যান্সার সচেতনতা মাস। পেটের উপরিভাগে পেছনের দুই দিকে দুটি কিডনি বা বৃক্ক থাকে। এখানে রক্ত শোধন করে প্রস্রাব তৈরি হয় এবং রক্তের দূষিত পদার্থ, গ্যাস প্রস্রাবের সঙ্গে মিশে ইউরেটার দিয়ে মূত্রথলিতে গিয়ে জমা হয়। ৩০০ মি.লি. জমা হলে প্রস্রাবের অনুভূতি হতে থাকে। ৪৫০ মি.লি. পর্যন্ত মানুষ প্রস্রাব না করে থাকতে পারে, তবে ব্যাথা অনুভূত হতে থাকে। এই প্রস্রাবের থলিতে বিভিন্ন রোগের মতো ক্যান্সারও হতে পারে। মূত্রথলিতে এই রোগ সংক্রমণ খুবই সহজ। কারণ প্রস্রাবের রাস্তা দিয়ে সহজেই কোনো জীবাণু কিংবা ভাইরাস প্রবেশ করতে পারে, বিশেষ করে যৌন মিলনের সময়।

এটি পুরুষের তুলনায় মেয়েদের  ক্ষেত্রে বেশি হয়ে থাকে। কারণ মেয়েদের প্রস্রাবের রাস্তা পুরুষের তুলনায় ছোট। প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়ার সময় ব্যথা থাকতে পারে, নাও থাকতে পারে। তবে জমাট রক্ত বের হলে প্রায় নিশ্চিতভাবে ধরে নেওয়া যায় যে, ক্যান্সার হয়েছে। এ ছাড়া ব্যথা, প্রস্রাব করতে কষ্ট পাওয়া এবং বিলম্ব করতে না পারা- এসব লক্ষণ দেখা দিতে পারে। এ জন্য রক্ত পরীক্ষা, প্রস্রাব পরীক্ষা, আলট্রাসনোগ্রাফি, সিস্টোকোপ বায়োপসি, এমআরআই ইত্যাদি পরীক্ষা করে নিশ্চিত হতে হবে। সূচনায় ধরা পড়লে সিস্টোস্কোপির মাধ্যমে টিউমার পুরোপুরি তুলে দিলে নিরাময় সম্ভব। মাংসের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে প্রথমে কয়েক কোর্স কেমোথেরাপি দিয়ে পরে রেডিওথেরাপি দিতে হয়। মূত্রথলি ভেতরের আবরণের উপরিভাগে থাকলে থলির ভেতরে ইন্ট্রাভেসিকেল ইনজেকশন পুশ করে নির্দিষ্ট সময় রেখে বের করে দেওয়া হয়। আর মাংসের গভীরে বিস্তার লাভ করে থাকলে সিস্টেমিক কেমো দিতে হয় এবং কখনওবা রেডিওথেরাপি দিতে হয়। এসব ব্যবস্থায় ক্যান্সার নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে অপারেশন করে মূত্রথলি ফেলে দিয়ে প্রস্রাব জমা করার জন্য ব্যাগ লাগিয়ে দেওয়া হয় অথবা একটি কৃত্রিম মূত্রথলি তৈরি করে দেওয়া হয়। এটি শরীরের বাইরে থাকে বিধায় অনেকেই এটি করতে আগ্রহী হন না। সুতরাং প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে চিকিৎসা নিন, ভালো থাকুন।