পাবনা বিএনপির কমিটিতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরাও

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০১৯      

এবিএম ফজলুর রহমান, পাবনা সেলিম সরদার, ঈশ্বরদী

বিএনপির পাবনা জেলা কমিটি বাতিল করে সেখানে দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিবকে আহ্বায়ক করে ৪৩ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার এ আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদন দেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তবে নতুন কমিটিতে সদস্য করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ট্রেনে গুলিবর্ষণ মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামিকে। তারা হচ্ছেন- ঈশ্বরদী পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর বিএনপির সভাপতি মোখলেছুর রহমান বাবলু, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া পিন্টু এবং একেএম আখতারুজ্জামান আখতার। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরাও বিএনপির কমিটিতে জায়গা পাওয়ায় বিস্ময় প্রকাশ করেছে আওয়ামী লীগ।

সূত্র জানায়, পাবনা জেলা বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলসহ নানা দ্বন্দ্বের কারণে পুরনো কমিটি ভেঙে সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠনে ঐকমত্য হন দলটির স্থানীয় নেতাকর্মীরা। যার পরিপ্রেক্ষিতে গত বৃহস্পতিবার জেলা কমিটি বাতিল করে আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ঈশ্বরদীর সন্তান হাবিবুর রহমান হাবিবকে আহ্বায়ক, সাবেক সহসভাপতি আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ মান্নান মাস্টার ও সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিদ্দিকুর রহমান ছিদ্দিককে যুগ্ম আহ্বায়ক করে ৪৩ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়।

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- বিএনপি চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার হাবিবুর রহমান তোতা, সাবেক এমপি একেএম সেলিম রেজা হাবিব, সিরাজুল ইসলাম সরদার, কেএম আনোয়ারুল ইসলাম, হাসান জাফির তুহিন, ঈশ্বরদী পৌরসভার সাবেক মেয়র মোখলেছুর রহমান বাবলু, জাকারিয়া পিন্টু, জহুরুল ইসলাম বাবু, আব্দুল সামাদ খান মন্টু, ফজলুর রহমান ফকির, তৌফিক হাবিব, কেএম মুসা, আবু ওবাইদা শেখ তুহিন, অ্যাডভোকেট মাসুদ খন্দকার, ব্যারিস্টার সাইফুর রহমান, পূর্ণিমা ইসলাম, সাব্বির হাসান বাচ্চু, নুর মোহাম্মদ মাসুম বগা, সাইফুল ইসলাম বাদশা, সেলিম আহমেদ, আনিসুল হক বাবু, আবুল হাশেম, রেহানুল ইসলাম বুলাল, আব্দুল হালিম সাজ্জাদ, শহিদুর রহমান টুটুল বিশ্বাস, এবিএম তৌফিক হাসান আলহাজ, মাহমুদুন্নবী স্বপন, মোশারফ হোসেন মুসাই, সাংবাদিক জহুরুল ইসলাম, কাউন্সিলর ফরহাদ জোয়ার্দ্দার, একেএম আখতারুজ্জামান আখতার, স্বপন কুমার সাহা, ডা. আহমেদ মোস্তফা নোমান, মলয় কুমার রায়, মেহেরুন্নেচ্ছা, ইউসুফ আলী মোল্লা, আব্দুল মান্নান খান চক্কু, সাজ্জাদ হোসেন স্বপন ও শফিউল আলম শফি।

আহ্বায়ক কমিটির সদস্যদের মধ্যে মোখলেছুর রহমান বাবলু, জাকারিয়া পিন্টু ও আখতারুজ্জামান আখতার তিনজনই ২৫ বছর আগে ১৯৯৪ সালে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ট্রেনে গুলিবর্ষণ মামলায় ফাঁসির দ প্রাপ্ত আসামি। তাদের মধ্যে জাকারিয়া পিন্টু এখনও পলাতক, আর বাকি দু'জন পাবনা জেলা কারাগারে বন্দি। গত ৩ জুলাই পাবনার  অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ওই মামলার রায়ে এই তিন নেতাসহ ৯ জনের ফাঁসি, ২৫ জনের যাবজ্জীবন ও ১৩ জনকে দশ বছর করে কারাদণ্ডে দণ্ডিত করেন।

নতুন কমিটিতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের রাখার বিষয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস সমকালকে বলেন, তারা আগেও বিএনপিতে ছিল। এখনও আছে, আগামীতে থাকবে। তাদের এমন দুঃসময়ে দল পাশে থাকবে।

তবে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তিন নেতাকে নতুন কমিটিতে সদস্য রাখায় বিস্ময় প্রকাশ করেছে আওয়ামী লীগ। পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শামসুর রহমান শরীফ ডিলু এমপি বলেন, বিএনপি প্রকৃত অর্থে সন্ত্রাসীদের লালনপালনকারী দল। তাদের নতুন কমিটি গঠনের মধ্য দিয়ে সেটি আবার প্রমাণ হলো।

ফাঁসির আসামি আপন তিন ভাই :শেখ হাসিনার ট্রেনবহরে গুলিবর্ষণ মামলার রায়ে মৃত্যুদে দণ্ডিত হয়েছেন আপন তিন ভাই। তারা হলেন ঈশ্বরদী পৌরসভার সাবেক মেয়র মোখলেছুর রহমান বাবলু, তার আপন ছোট দুই ভাই বিএনপি নেতা মাহাবুবুর রহমান পলাশ ও যুবদল নেতা রেজাউল করিম শাহিন। গত বুধবার পাবনার স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল-৩-এর বিচারক মো. রুস্তম আলী যখন রায় ঘোষণা করেন, তখন তিন ভাই আসামির কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে ঈশ্বরদী পৌর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এস.এম.ফজলুর রহমান বলেন, রাজনৈতিকভাবে মামলার কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তু্তুতি নেওয়া হয়েছে। উচ্চ আদালতে আপিল করার মাধ্যমে দলীয়ভাবে এ মামলায় আইনি সহায়তা দিচ্ছে বিএনপি।