শুধু অপহরণ নয়, বর্ষাকে ধর্ষণও করা হয়েছিল

অপমানে আত্মহত্যা

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০১৯      

রাজশাহী ব্যুরো

মোহনপুর উপজেলায় অপহণকারীর স্বজনদের অপমানে সুইসাইড নোট লিখে আত্মহত্যা করা স্কুলছাত্রী সুমাইয়া আক্তার বর্ষাকে ধর্ষণ করা হয়েছিল। রাজশাহী মেডিকেল কলেজের (রামেক) ফরেনসিক বিভাগের পরীক্ষায় এ আলামত পাওয়া গেছে। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ থেকে এ প্রতিবেদন পুলিশের কাছে পাঠানো হয়েছে।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক মিশু রানী সাহা স্বাক্ষরিত ওই প্রতিবেদন পুলিশকে দেওয়া হয়েছে গত ২৫ জুন। পুলিশ ২৭ জুন প্রতিবেদনটি রাজশাহীর আমলি আদালতে (মোহনপুর) দাখিল করেছে। চিকিৎসক প্রতিবেদনে তার মন্তব্যের একাংশে বলেছেন, ভিকটিমের শরীরে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। তার বয়স হতে পারে ১৫ থেকে ১৬ বছর।

বর্ষা মোহনপুর উপজেলার বিলপাড়া গ্রামের দিনমজুর আবদুল মান্নানের মেয়ে। স্থানীয় একটি স্কুলে সে নবম শ্রেণিতে পড়ত। গত ২৩ এপ্রিল উপজেলার খানপুর বাগবাজার এলাকায় রাস্তার পাশে তাকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। এর আগে বর্ষার বান্ধবী সোনিয়ার সহযোগিতায় প্রতিবেশী মুকুল অপহরণ করেছিল বর্ষাকে। এরপর তাকে অচেতন করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে রাস্তার পাশে অচেতন অবস্থায় ফেলে গেলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে। পরে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) তার শারীরিক পরীক্ষা করা হয়। এ ঘটনায় মামলা করা হলে অপহরণকারী মুকুলের স্বজনদের অপমান ও হুমকিতে গত ১৬ মে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে স্কুলছাত্রী বর্ষা।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি খালিদ হোসেন। তিনি বলেন, বর্ষাকে অচেতন করে অপহরণ করা হয়। তাই সে ধর্ষণের বিষয়টি বলতে পারেনি। তবে মৃত্যুর আগে বলে গিয়েছিল, তার সঙ্গে খারাপ কিছু হয়েছে। প্রতিবেদনটি পাওয়ার পর তা আদালতে দাখিল করার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।