হাটহাজারীতে গৃহবধূ হত্যার অভিযোগ

শ্বশুর-শাশুড়ির দাবি স্ট্রোকে মৃত্যু

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০১৯      

হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলায় জান্নাতুন নাইম নিশু (২০) নামে এক গৃহবধূকে নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। তবে শ্বশুর-শাশুড়ির দাবি, স্ট্রোক করে মৃত্যু হয়েছে নিশুর। গতকাল শনিবার দুপুরে নিশুকে মৃত অবস্থায় হাটহাজারী সদরের আলিফ হাসপাতালে আনা হলে স্বজনরা তার শ্বশুর ফারুক আহমদকে (৬০) বেধড়ক পিটুনি দিয়ে পুলিশে দেয়। এ ঘটনায় শাশুড়ি স্বপ্না বেগমকেও আটক করা হয়েছে।

নিশু রাউজান উপজেলার চিকদাইর ইউনিয়নের আমিনুল খলিফা বাড়ির দুবাই প্রবাসী মো. সোলাইমানের মেয়ে। ছয় মাস বয়সী একটি পুত্রসন্তান রয়েছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বছর দেড়েক আগে হাটহাজারী পৌর এলাকার ফারুক আহমদের দুবাই প্রবাসী ছেলে ফোরকান মেহেদীর সঙ্গে বিয়ে হয় নিশুর। বিয়ের পর সংসারের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে শ্বশুর-শাশুড়ি তাকে গালমন্দ এমনকি শারীরিকভাবে নির্যাতনও করতেন। গত রমজানের আগে শ্বশুর-শাশুড়ির নির্যাতনের শিকার হয়ে বাবার বাড়ি চলে যান নিশু। সম্প্রতি পারিবারিকভাবে মীমাংসার পর ফের শ্বশুরবাড়ি যান তিনি। শনিবার দুপুরে নিশু স্ট্রোক করেছে বলে প্রচার করে শ্বশুর ও শাশুড়ি তাকে সদরের আলিফ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে নিশুর স্বজনরা সেখানে গিয়ে তার শ্বশুর ফারুক আহমদকে পিটুনি দেয়। পরে হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মাসুম ও থানার ওসি বেলাল উদ্দিন জাহাঙ্গীর ঘটনাস্থলে গিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার পুলিশ হেফাজতে চমেক হাসপাতালে পাঠায় এবং শাশুড়ি স্বপ্না বেগমকে আটক করে।

আলিফ হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক চৌধুরী মো. ইমতিয়াজ সুলতান বলেন, 'গৃহবধূ নিশুকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছে। আমরা ইসিজি করে এ বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছি।'

নিশুর মা রাশেদা আক্তার রাশু অভিযোগ করেন, বিয়ের পর থেকে  শ্বশুর-শাশুড়ি নিশুকে নির্যাতন করতেন। তারা নির্যাতন করে তার মেয়েকে  খুন করেছেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মাসুম বলেন, মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয় করতে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।