বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় আরও দুই আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। মামলায় জড়িত সন্দেহে গ্রেফতার নাজমুল হাসান ও মো. সাগর শুক্রবার রাতে বরগুনার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম গাজীর আদালতে এ জবানবন্দি দেয়। এর আগে এ মামলায় আরও চার আসামি স্বীকারোক্তি দিয়েছে। এদিকে মামলার ১২ নম্বর আসামি টিকটক হৃদয় ও জড়িত সন্দেহে গ্রেফতার রাফিউল ইসলাম রাব্বিকে একই আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ডে দিয়েছেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির বলেন, নাজমুল ও সাগরকে রিমান্ড শেষে শুক্রবার সন্ধ্যার পর আদালতে হাজির করা হলে তারা রিফাত হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। পরে তাদের জেলহাজতে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় কামরুল হাসান সাইমুনকে পুলিশি হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ফের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন একই আদালত। এর আগে এ মামলায় আরও চারজন একই আদালতে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে।

রিফাত ফরাজীর নেতৃত্বেই হত্যা :প্রকাশ্যে কুপিয়ে রিফাত শরীফকে হত্যাকাণ্ডের নেতৃত্ব দিয়েছিল মামলার ২ নম্বর আসামি রিফাত ফরাজী। এতে প্রধান সহযোগী ছিল রিফাত ফরাজীর ছোট ভাই মামলার ৩ নম্বর আসামি রিশান ফরাজী। গণমাধ্যমের কাছে আসা একটি সিসিটিভির ফুটেজে এমন দৃশ্য দেখা যায়। রিফাত ফরাজী গ্রেফতার হলেও তার ভাই এখনও অধরা রয়ে গেছে।

ফুটেজে দেখা যায়, গত ২৬ জুন সকাল  ১০টা ৩ মিনিটের সময় নয়ন বন্ড বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড রিফাত ফরাজী ও ছোট ভাই রিশান ছয় থেকে সাতজনকে নিয়ে কলেজের সামনে অবস্থান নেয়। ১০টা ৬ মিনিটের দিকে দু-তিনজনকে কলেজের ভেতরে পাঠায় রিফাত ফরাজী। ১০টা ৯ মিনিটে ওই দু-তিনজনসহ আরও কয়েকজন কলেজ থেকে বের হয়ে গেটের বিপরীতে এসে রাস্তায় দাঁড়ায়। ১০টা ৯ মিনিটে কলেজ থেকে স্ত্রী মিন্নিসহ রিফাত শরীফ বের হন। এ সময় রিশান ফরাজীর নেতৃত্বে কয়েকজন রিফাত শরীফের পথ আগলে কিল-ঘুষি মারতে মারতে সামনের দিকে নিয়ে যায়।

এ সময় তাদের সামনের দিকে ছিল রিফাত ফরাজী। কলেজ গেটের ৫০ গজ দূরে নিয়ে দাঁড়ানো নয়ন বন্ডের (মামলার প্রধান আসামি, বন্দুকযুদ্ধে নিহত) সামনে এনে সাত-আটজন রিফাত শরীফকে কিল-ঘুষি মারতে থাকে। ঠিক এ সময় রিফাত ফরাজী ও আরেকজন দৌড়ে গিয়ে রামদা নিয়ে আসে। রিফাতের হাতে থাকা দুটি রামদার একটি দেওয়া হয় নয়নের হাতে। আরেকটি দিয়ে রিফাত ফরাজী কোপাতে থাকে রিফাত শরীফকে। হত্যাকাণ্ডে অন্তত ২০ জন অংশ নেয় নানাভাবে।

পুলিশের তদন্ত-সংশ্নিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এখন পর্যন্ত যে ছয়জন আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে, তারা রিফাত শরীফকে কোপানোর সময় সেখানে উপস্থিত থাকার কথা স্বীকার করেছে। ফেসবুকের মেসেঞ্জার গ্রুপ 'বন্ড ০০৭'-এ বার্তা পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে হাজির হয়েছিল।

গত ২৬ জুন সকালে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে সন্ত্রাসীরা স্ত্রীর সামনে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করে রিফাত শরীফকে। এ মামলায় এজাহারভুক্ত ১২ আসামির মধ্যে পাঁচজনকে ও হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে আরও পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এজাহারভুক্ত ছয় আসামি এখনও পলাতক। বরগুনার পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন বলেন, এ ঘটনায় জড়িত কেউই ছাড় পাবে না। বাকি আসামিদের দ্রুতই আইনের আওতায় আনতে চেষ্টা চলছে।

মন্তব্য করুন