কেন্দুয়ায় সেই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের ২ মামলা

আরও ৬ ছাত্রীকে ধর্ষণের কথা স্বীকার

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০১৯      

কেন্দুয়া (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি

কেন্দুয়া পৌর এলাকার মা হাওয়া (আ.) কওমি মহিলা মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক আবুল খায়ের বেলালীর বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা হয়েছে। গতকাল শনিবার ভুক্তভোগী দুই ছাত্রীর অভিভাবক নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে পৃথক দুটি মামলা করেন তার বিরুদ্ধে। একই প্রতিষ্ঠানের এক শিশু ছাত্রীকে ধর্ষণ ও অপর ছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগের বিষয়ে গতকাল সমকালসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়। গতকাল পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ওই দুই ছাত্রীসহ আরও ছয় ছাত্রীকে ধর্ষণের কথা স্বীকার করে বেলালী।

গতকাল কেন্দুয়া থানার দুটি মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে শিক্ষক বেলালীকে নেত্রকোনা আদালতে পাঠানো হয়। একই সঙ্গে দুই ছাত্রীকে ধর্ষণ-সংক্রান্ত ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

কেন্দুয়া থানার ওসি মোহাম্মদ রাশেদুজ্জামান জানান, পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে শিক্ষক বেলালী অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে। গত এক  বছরে আরও ছয় ছাত্রীকে যৌন হয়রানি ও ধর্ষণের কথা জানায় সে।

বেলালী পুলিশকে জানায়, ওই মাদ্রাসার ছাত্রী ৩৫ জন, এর মধ্যে আবাসিক ১৫ জন। মাদ্রাসার একটি কক্ষেই থাকত সে। শয়নকক্ষ থেকে যখন তখন কলিংবেল চাপত সে। তখন ছাত্রীরা সেখানে গেলে এক ছাত্রীকে রেখে অন্যদের চলে যেতে বলত। তারপর তাকে দিয়ে হাত-পা টিপিয়ে নিত। এভাবে একপর্যায়ে তার লালসার শিকার হতো ছাত্রীরা। এরপর পবিত্র ধর্মগ্রন্থ মাথায় দিয়ে ঘটনাটি না বলার জন্য কসম করাত। এই ভয়ে এতদিন কোনো ছাত্রীই এই প্রধান শিক্ষকের অপকর্মের কথা প্রকাশ করেনি।

গত শুক্রবার সকালে বেলালী তার শয়নকক্ষ থেকে কলিংবেল চেপে এক ছাত্রীকে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করে। এ ঘটনায় অভিভাবক ও স্থানীয়রা তাকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেন। এরপরই তার অপকর্মের বিষয়গুলো ধরা পড়ে। গণপিটুনির পর বেলালী গত মঙ্গলবার একইভাবে আরেক ছাত্রীকে ধর্ষণ করার কথা স্বীকার করে।

নেত্রকোনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মোহাম্মদ শাহজাহান মিয়া শিক্ষক বেলালীকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং মাদ্রাসা পরিদর্শন করে কলিংবেলটি উদ্ধার করেন। জিজ্ঞাসাবাদে বেলালী অকপটে তার অপকর্মের কথা স্বীকার করে।

বাদে আঠারোবাড়ি গ্রামের অভিভাবকদের পক্ষে কেন্দুয়া বাজারের ব্যবসায়ী ফরিদ আলম তালুকদার বলেন, শিশু শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত করার জন্য মাদ্রাসায় দেওয়া হয়েছিল। শিক্ষক বেলালীর ঘটনা প্রকাশের পর সবাই স্তম্ভিত হয়ে যান। পরে প্রত্যেকেই তাদের সন্তানদের মাদ্রাসা থেকে নিয়ে যান। তিনি বলেন, আমরা গ্রামবাসী বেলালীর ফাঁসির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছি।

খোকন ডিলার নামে এক ছাত্রীর অভিভাবক বলেন, শিক্ষক বেলালীর বিরুদ্ধে অভিভাবকদের অনেক অভিযোগ ছিল। সে নিজের মতো আইন করে ওই মাদ্রাসা চালাত। মাদ্রাসার ভেতর কোনো অভিভাবককে ঢুকতে দেওয়া হতো না।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কেন্দুয়া থানা পুলিশের পরিদর্শক (তদন্ত) রফিকুল ইসলাম বলেন, আদালতে বেলালীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন না হলে তাকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। গতকাল জিজ্ঞাসাবাদের পর বেলালীকে নেত্রকোনা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।