রাজধানীর তিন সড়কে রিকশা বন্ধ আজ থেকে

বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়া রিকশা বন্ধ না করার দাবি

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

বিকল্প ব্যবস্থা না করে রিকশা চলাচল বন্ধ না করার দাবি জানিয়েছে জাতীয় রিকশা-ভ্যান শ্রমিক লীগ। গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক মানববন্ধন ও সমাবেশ থেকে এ দাবি জানান তারা। দাবি না মানা হলে ১১ জুলাই জাতীয় প্রেস ক্লাবে মহাসম্মেলন করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন সংগঠনের নেতারা।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, গত জুন মাসে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ঢাকায় যানজট নিরসনের জন্য দুই মাসের সময় নির্ধারণ করে অবৈধ যানবাহন উচ্ছেদ করার ঘোষণা দিয়েছেন। কিন্তু ৩ জুলাই ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে অনুষ্ঠিত সভায় মেয়র সাঈদ খোকন গাবতলী থেকে আজিমপুর, সায়েন্সল্যাব থেকে শাহবাগ, কুড়িল থেকে খিলগাঁও হয়ে সায়েদাবাদ পর্যন্ত রিকশা চলাচল বন্ধের ঘোষণা দেন। এ সিদ্ধান্ত লক্ষাধিক শ্রমজীবী রিকশাচালকের জীবিকার জন্য কোনো বিকল্প ব্যবস্থা না করে শ্রমজীবীদের পেটে আঘাত করার সমান। সরকার চাইলে অবৈধ রিকশা বন্ধ  করে রিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে যানজট নিরসন করতে পারে। সমাবেশে রিকশাচালকরা রিকশা বন্ধ না করে যানজট নিরসনে কয়েক দফা দাবি তুলে ধরেন। তাদের দাবি, বিভিন্ন সড়কে রিকশা-ভ্যান চলাচল বন্ধ করার আগে ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের দেওয়া ৮৮ হাজার রিকশা-ভ্যানের মালিকানা লাইসেন্স বাতিল না করা পর্যন্ত সব সড়কে রিকশা-ভ্যান চলাচল করার সুযোগ দিতে হবে। অবৈধ রিকশাসহ অন্যান্য যানবাহন উচ্ছেদ অভিযান জোরদার করতে হবে। রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় অনুমোদনহীন ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল অবিলম্বে নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে হবে। বিকল্প ব্যবস্থা না করে রিকশা চলাচল বন্ধ করার ঘোষণা প্রত্যাহার করতে হবে। বিভিন্ন সংগঠনের নামে প্লেট-টোকেন ব্যবহারকারী রিকশাগুলো আটক করতে হবে। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কে রিকশা চলাচলের জন্য পৃথক বাই লেন তৈরি করতে হবে। ১৯৮৬ সালে সিটি করপোরেশনের অর্ডিন্যান্স অনুসারে ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নিবন্ধিত রিকশা-ভ্যানগুলো নির্বিঘ্নে চলাচলের ব্যবস্থা করতে হবে। ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের শর্তাবলি অনুযায়ী রিকশাচালকদের লাইসেন্স প্রদান করতে হবে। রিকশা-ভ্যানের মালিকানা লাইসেন্স নবায়ন করাসহ কর্মসূচি পরিচালনা করার জন্য ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে পৃথক দপ্তর গঠন করতে হবে। এ ছাড়া রিকশা শ্রমিক-ভ্যান শ্রমিক লীগ নেতারা দাবি জানান, ২০০১ সালে সিটি করপোরেশন, পুলিশ প্রশাসন, রিকশা-ভ্যান মালিক-শ্রমিকদের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি অনুযায়ী ৩৫ হাজার রিকশা ও আট হাজার ভ্যানগাড়ির নতুন লাইসেন্স ইস্যু করতে হবে।

মানববন্ধন ও সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সভাপতি মো. আবুল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক ইনসুর আলী, যুগ্ম সম্পাদক মো. রেজাউল করিম, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মোশারফ হোসেন, বাংলাদেশ রিকশা ও ভ্যান মালিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক আর এ জামান প্রমুখ।