টিউশনির টাকার জন্য থানায় নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

রাজধানীর রূপনগরে একটি স্কুলের শিক্ষিকাকে টিউশনির টাকা না দেওয়ায় এক ছাত্রীর ভাইকে স্থানীয় থানায় নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে রূপনগর থানা পুলিশের এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। এমনকি ওই ছাত্রীকেও ক্লাশে শারীরিক নির্যাতন করে তাকে স্কুল থেকে বহিস্কারের তথ্য মিলেছে। গতকাল শনিবার সংবাদ সম্মেলন করে এ অভিযোগ করেন ওই এলাকার বাসিন্দা আল-আমিন ও তার পরিবারের সদস্যরা। রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) মিলনায়তনে ওই সংবাদ সম্মেলন হয়।

আল-আমিন বলেন, 'আমার বোন তামান্না আক্তার মুক্তি রূপনগরের কামাল আহম্মেদ মজুমদার স্কুল অ্যান্ড কলেজের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী। সে স্কুলের শাপলা নামের এক শিক্ষিকার বাসায় প্রাইভেট পড়ত। গত জুনে অন্য এক শিক্ষিকার কাছে পড়তে যায় সে। এতে শিক্ষিকা শাপলা ২০ দিনের টিউশন ফি পেতেন। এই টাকা না দেওয়ায় এবং তার কাছে প্রাইভেট পড়তে না যাওয়ায় ২৭ জুন শাপলা ক্লাসের মধ্যেই অপর এক শিক্ষার্থীকে দিয়ে মারধর করায় আমার বোনকে।'

তিনি বলেন, আহত বোনের বিচার চাইতে তিনি স্কুলে যান। বিচার না পেয়ে এলাকাবাসীকে নিয়ে মানববন্ধনের প্রস্তুতি নেন। তখন স্কুলটির পরিচালনা কমিটির সদস্য সুইটি আক্তার শিনু তাকে নিয়ে রূপনগর থানায় যান। সেখানে মোকাম্মেল হক নামে থানার এক পরিদর্শক তাকে ওসির কক্ষে মারধর করেন। গালাগাল করে শিনুর কাছে মাফ চাইতে বাধ্য করেন। এরপরও থানা হাজতে আটকে রাখা হয় তাকে। একপর্যায়ে তার কাছ থেকে সাদা কাগজে স্বাক্ষর রেখে ছেড়ে দেওয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আল-আমিন ও তামান্নার বাবা মুক্তিযোদ্ধা তোফাজ্জল হোসেন জানান, তার ছেলেকে ছেড়ে দিলেও ইন্সপেক্টর মোকাম্মেল তাদের হুমকি দিয়ে বলেছেন, এটা নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে মিথ্যা মামলায় সারাজীবন জেলে কাটাতে হবে। ছেলেকে ক্রসফায়ারেরও হুমকি দেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা। বিষয়টি সুরাহার জন্য থানা থেকে তার কাছে ৫০ হাজার টাকাও দাবি করা হয়। আতঙ্কে তিনি ছেলেকে এতদিন বাসার বাইরে লুকিয়ে রাখেন।

পুরো বিষয় জানিয়ে আইজিপির কম্পিল্গন সেল, ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনারের দপ্তর ও মিরপুর বিভাগের ডিসি অফিসেও লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তোফাজ্জল।

সংবাদ সম্মেলনস্থল থেকেই অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ফোনে সুইটি আক্তার শিনু বলেন, 'এসব অভিযোগ বানোয়াট। এটা স্কুলের বিষয়।' তিনি বলেন, আল-আমিন নামে ছেলেটি তার কাছে অভিযোগ নিয়ে গিয়ে বাজে আচরণ করে। এ নিয়ে কথা কাটাকাটি হলে উল্টো তাকে ধাক্কা দেয় আল-আমিন। তখন পুলিশ তাকে ধরে নিয়ে যায়। পরিচিতজনদের অনুরোধে তিনি মামলা না করায় ওই অভিভাবক (আল-আমিন) রক্ষা পেয়েছে।' অবশ্য এ বিষয়ে চেষ্টা করেও অভিযুক্ত শিক্ষিকার বক্তব্য মেলেনি।

শিক্ষার্থীর পরিবারের অভিযোগের সত্যতা জানতে রূপনগর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) মোকাম্মেল হকের সরকারি মোবাইল নম্বরে কয়েক দফা ফোন করে ও তাকে ক্ষুদে বার্তা পাঠালেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ক্ষুদে বার্তারও কোনো জবাব দেননি।