'প্রকৃতি ও সমাজ রক্ষায় তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে'

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০১৯      

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

আগামী দিনের উন্নয়নে প্রকৃতি ও সমাজ রক্ষার যে অঙ্গীকার, সেটি রক্ষা করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো বাস্তবায়ন। আমাদের সেই বাস্তবায়নের দিকে যেতে হবে। এজন্য তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে আসতে হবে।

গতকাল শনিবার সকালে শাহবাগ সুফিয়া কামাল কেন্দ্রীয় গণগ্রন্থাগারের শওকত উসমান স্মৃতি মিলনায়তনে 'বাসযোগ্য পরিবেশ তৈরি ও সংরক্ষণে তরুণ সমাজের করণীয়' শীর্ষক আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে উন্নয়ন সমন্বয়ের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর অধ্যাপক ড. আতিউর রহমান এসব কথা বলেন। বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে গ্রিন এনভায়রনমেন্ট মুভমেন্ট।

গ্রিন এনভায়রনমেন্ট মুভমেন্টের সভাপতি দেলোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ সেন্টার ফর অ্যাডভান্স স্টাডিজের নির্বাহী পরিচালক ড. এ আতিক রহমান, সাবেক সচিব নজরুল ইসলাম খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক ড. হাফিজা খাতুন, সঙ্গীত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সঙ্গীতশিল্পী প্রিয়াঙ্কা গোপ, জাতীয় মহিলা ফুটবল দলের অধিনায়ক সাবিনা খাতুন, অভিনেত্রী তারিন জাহান প্রমুখ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন গ্রিন এনভায়রনমেন্ট মুভমেন্টের সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন মাহি।

অনুষ্ঠানে ড. আতিউর রহমান বলেন, প্যারিস জলবায়ু চুক্তিতে আমরা প্রত্যেকেই প্রকৃতি ও প্রজন্মকে রক্ষা করার ঐকমত্যে এসেছি। জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সবাইকে বাঁচাতে হবে। আমাদের সবুজায়নের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। বেশি বেশি বৃক্ষ রোপণ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, সামাজিক জীব হিসেবে আমাদের প্রকৃতিকে  সঙ্গে নিয়ে চলতে হবে। বিভিন্ন স্কুল-কলেজে জলবায়ু ক্লাব তৈরি করতে হবে। স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ সবার সঙ্গে মতবিনিময় সভার আয়োজন করা যেতে পারে। তরুণ প্রজন্মকেই এ কাজটি করতে হবে।

ড. এ আতিক রহমান বলেন, প্রকৃতিকে রক্ষা করার দায়িত্ব মানুষেরই। প্রকৃতি ও পরিবেশকে সুন্দর ও নির্মল করার দায়িত্ব তরুণদেরই নিতে হবে। অর্থনৈতিক উন্নতি পরিবেশবান্ধব ও সামাজিক দায়বদ্ধতার ভিত্তিতে হতে হবে। দারিদ্র্য বিমোচন ও জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতি থেকে দেশকে বাঁচাতে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

অধ্যাপক ড. হাফিজা খাতুন বলেন, আমরা যদি উন্নয়ন করতে চাই এবং একে টেকসই করতে চাই, তাহলে পরিবেশ সুন্দর রাখতে হবে। এ ক্ষেত্রে সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। সচেতনতা সৃষ্টির জন্য সরকারের পলিসি থেকে শুরু করতে হবে।

অনুষ্ঠান শেষে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত রচনা ও প্রামাণ্যচিত্র প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। রচনা প্রতিযোগিতায় চারটি পর্যায়ে ১৪ জনকে পুরস্কৃত করা হয়। প্রামাণ্যচিত্রে বিজয়ী তিনজনকে পুরস্কার দেওয়া হয়।