দুই মাসে বজ্রপাতে নিহত ১২৬

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০১৯      

সমকাল প্রতিবেদক

চলতি বছরের মে ও জুন মাসে বজ্রপাতে সারাদেশে ১২৬ জনের প্রাণহানি ঘটেছে, আহত হয়েছেন ৫৩ জন। বেসরকারি সংস্থা 'সেভ দ্য সোসাইটি অ্যান্ড থান্ডারস্টর্ম অ্যাওয়ারনেস ফোরাম' ১০টি জাতীয় ও আঞ্চলিক দৈনিক, কয়েকটি অনলাইন নিউজপোর্টাল ও টেলিভিশন স্ট্ক্রল থেকে প্রাপ্ত সংবাদের ভিত্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

গতকাল শনিবার সংস্থাটির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দুই মাসে বজ্রপাতে নিহতদের মধ্যে রয়েছে ২১ নারী, সাত শিশু ও ৯৮ জন পুরুষ। এর মধ্যে মে মাসে নিহত হয়েছেন ৬০ জন এবং জুন মাসে ৬৬ জন। মে মাসে নারী ৯ জন, শিশু তিনজন ও পুরুষ ৪৮ জন নিহত হন। জুন মাসে নারী ১২, শিশু ৪ ও পুরুষ ৫০ জন নিহত হন।

সেভ দ্য সোসাইটি অ্যান্ড থান্ডারস্টর্ম অ্যাওয়ারনেস ফোরামের গবেষণা সেলের প্রধান আবদুল আলীম জানান, ১০টি জাতীয় ও আঞ্চলিক দৈনিক পত্রিকা, কয়েকটি অনলাইন নিউজপোর্টাল ও টেলিভিশনের স্ট্ক্রল থেকে বজ্রপাতে হতাহতের সব তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সবচেয়ে বেশি হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কিশোরগঞ্জ জেলায়। এ জেলায় গত দুই মাসে বজ্রপাতে নিহত হয়েছেন ১৬ জন। বজ্রপাতে নিহতদের মধ্যে হবিগঞ্জে তিনজন, রাজশাহীতে ১০, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৯, পাবনায় ৬, দিনাজপুরে ৭, নীলফামারীতে ৪, জামালপুরে ৪, শেরপুরে ৪, নওগাঁয় ৬, সিরাজগঞ্জে ৫, নারায়ণগঞ্জে ৬, মৌলভীবাজারে ৩, খুলনায় ৪, সাতক্ষীরায় ১১ ও টাঙ্গাইলের চারজন।

সেভ দ্য সোসাইটি অ্যান্ড থান্ডারস্টর্ম অ্যাওয়ারনেস ফোরাম বলছে, ধান কাটার সময় বজ্রপাতে সবচেয়ে বেশি নিহতের ঘটনা ঘটেছে। এর পর বেশি নিহত হয়েছে বৃষ্টি ও বজ্রপাতের সময় মাছ ধরতে গিয়ে। এ ছাড়া পর্যায়ক্রমে মাঠে গরু আনতে গিয়ে এবং টিন ও খড়ের ঘরে অবস্থান ও ঘুমানোর সময় বজ্রাঘাতে বেশি মানুষ মারা গেছে। একই সঙ্গে বৃষ্টি ও বজ্রপাতের সময় অজ্ঞতাবশত লম্বা গাছের নিচে আশ্রয় নেওয়ার সময় গাছে বজ্রপাত হয়ে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে।

আবহাওয়ার পরিবর্তন, লম্বা গাছের সংখ্যা কমে যাওয়া, মেঘে মেঘে ঘর্ষণের মাত্রা বেড়ে যাওয়া, যত্রতত্র মোবাইল ফোনের টাওয়ার বসানো এবং বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণেই বজ্রপাত অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে বলে মনে করেন এই দলের গবেষকরা।