উড়াল সড়ক যেন ডাস্টবিন

বর্জ্যে সয়লাব চট্টগ্রামের ফ্লাইওভার

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০১৯      

স্বপন কুমার মলিল্গক, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামের লালখান বাজার থেকে বহদ্দারহাট এলাকা পর্যন্ত যানজট নিরসনে নির্মিত হয় আখতারুজ্জামান ফ্লাইওভার; কিন্তু নগরবাসীর কাছে সেটি অনেকটা বিনোদনকেন্দ্রের মতোই। বিকেল হলেই মানুষের ঢল নামে এই ফ্লাইওভারে। এসব মানুষের ফেলে দেওয়া আবর্জনায় এই উড়াল সড়ক এখন ডাস্টবিনে পরিণত হয়েছে। মানুষের ফেলে যাওয়া খাদ্যদ্রব্যের প্যাকেট, বাদামের খোসা, খালি পানির বোতলে সয়লাব এখন এই ফ্লাইওভার। এসব আবর্জনার কারণে বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা দেখা দেয় এই উড়াল সড়কে!

এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শফিকুল মান্নান সিদ্দিকী বলেন, 'ফ্লাইওভার এখনও আমাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি। এর রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব সিডিএর। তাই পরিচ্ছন্নতার বিষয়টিও তাদের এখতিয়ারভুক্ত।'

একই প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান জহিরুল আলম দোভাষ বলেন, 'এখানে আমাদের লোকজনই পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করে। তবে এক্ষেত্রে মানুষকে আরও সচেতন হতে হবে। উড়াল সড়ক বিনোদনকেন্দ্র নয়। তবুও আমরা সেখানে ভ্রাম্যমাণ ডাস্টবিন রেখেছি। এখন মানুষ যদি সেখানে না ফেলে উড়াল সড়ক ময়লা করে তাহলে তা খুবই দুঃখজনক।'

সরেজমিনে দেখা যায়, যানজট নিরসনের এই ফ্লাইওভার বিকেলে বিনোদনকেন্দ্রে পরিণত হয়। বিশেষত তরুণ-তরুণীদের আড্ডাস্থল হয়ে ওঠে এটা। আড্ডা শেষে এসব তরুণ-তরুণী বাদাম, চিপস, পানির বোতল, কোল্ডড্রিকংস ক্যান সব ফ্লাইওভারের যেখানে সেখানে রেখে চলে যায়। ফলে আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে এখন জায়গাটা। যদিওবা নিয়মিত আবর্জনা পরিস্কার করে সিডিএ। তবুও সব আবর্জনা পরিস্কার সম্ভব হয় না। এসব আবর্জনার কারণেই অল্প বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা দেখা দেয় এই উড়াল সড়কেও। ফ্লাইওভারের বৃষ্টির পানি নিস্কাশনের জন্য পাইপ দেওয়া হয়েছে। এই পাইপ দিয়ে পানি নিচে পড়ে যাওয়ার কথা; কিন্তু আবর্জনা পানি নিস্কাশনের পাইপের মুখে আটকে যায়। এতে পানি নিস্কাশন  মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।

এদিকে বিনোদনের স্পট হিসেবে ব্যবহারের কারণে অনেক সময় ফ্লাইওভারে যান চলাচলেও প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়। বিশেষত কিশোর তরুণরা বাইক নিয়ে স্টান্ট করার জন্য এখানে আসে। তাদের এই স্টান্টের জন্য সংগত কারণে অন্য সব যান চলাচল ব্যাহত হয়। এ প্রসঙ্গে আব্দুস সামাদ নামের এক সিএনজি অটোরিকশা চালক বলেন, 'ছোট ছোট ছেলেরা মোটরসাইকেল নিয়ে এখানে খেলা দেখায়। সে সময় প্রচুর মানুষ তাদের ঘিরে রেখে এসব খেলা উপভোগ করে। তখন স্বাভাবিক যান চলাচল ব্যাহত হয় এখানে। দুর্ঘটনাও ঘটে।' সল্ফপ্রতি চট্টগ্রাম নগরীর এই ফ্লাইওভারের লালখান বাজার এলাকায় প্রাইভেট কারের ধাক্কায় নিহত হয়েছেন অভিজিৎ দত্ত অভি (৩০)। গুরুতর আহত হয়েছেন মিসকাত (২৩) ও মুনতাসির (২৮) নামে আরও দুই জন।

এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে সিডিএর প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামস বলেন, 'এখানে যারা বেড়াতে আসে, তারা একেবারে ছোট নয়, অবুঝও নয়। কিন্তু তাদের কর্মকাণ্ডগুলো দায়িত্বজ্ঞানহীনের মতো। তাদের এ আচরণের জন্যই ফ্লাইওভারে জলাবদ্ধতার মতো অদ্ভূত ঘটনা ঘটে এ দেশে। সবাই নিজ নিজ দায়িত্ব ঠিকঠাক মতো পালন করলেই এ ধরনের ঘটনা ঘটে না।'