পুঠিয়া পৌর মেয়রের বিরুদ্ধে খাস পুকুরের মাছ লুটের অভিযোগ

প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০১৯

রাজশাহী ব্যুরো

পুঠিয়া পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি রবিউল ইসলাম রবির বিরুদ্ধে পুঠিয়া রাজবাড়ীর খাস পুকুর থেকে মাছ লুটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উপজেলা প্রশাসন ও এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, গত মঙ্গলবার স্থানীয় যুবলীগ ক্যাডারদের নিয়ে পৌর মেয়র রবি পুঠিয়া রাজবাড়ীর বাঁকা চৌকি নামের দীঘিতে যান। সেখানে দাঁড়িয়ে থেকে তিনি পুকুরে জাল নামিয়ে দেন। আট থেকে ১০ কেজি ওজনের তিন ট্রাক মাছ পুকুর থেকে তোলা হয়। পরে মাছগুলো ঢাকায় নিয়ে বিক্রি করেন তিনি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এই মাছের মূল্য অন্তত ১০ লাখ টাকা হবে।

এ বিষয়ে পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওলিউজ্জামান বলেন, এই পুকুর থেকে মেয়র রবির নেতৃত্বে মাছ ধরে নেওয়ার বিষয়টি শুনেছি।

স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. মনসুর রহমান বলেন, পুকুরটি খাস হিসেবে সরকারের দখলে রয়েছে। এটি জেলা প্রশাসক খাস হিসেবে ঘোষণা করেছেন। পুকুরটি কোনো ব্যক্তির নয়। ফলে এখান থেকে কেউ মাছ চুরি করলে তা রক্ষার দায়িত্ব স্থানীয় উপজেলা প্রশাসনের। রক্ষা করতে না পারলে তার ব্যর্থতাও তাদের। আশা করব, স্থানীয় প্রশাসন এই মাছ চুরির মামলা করবে এবং চোরের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেবে।

এ ব্যাপারে পুঠিয়া পৌর মেয়র রবিউল ইসলাম রবি দাবি করেন, পুকুরটি সরকারের মধ্যে নেই। সরকারি হলে সরকার টেন্ডার দেয় না কেন? কমর বেগমের বংশধররা পুকুরটি ভোগ করত। দুই বছর ধরে সরকার তাদের কাছ থেকে খাজনা নেয় না। মেয়র আরও দাবি করেন, তাকে কমর বেগমের বংশধররা এটি টেন্ডার দিয়েছে।

তিনি পাল্টা অভিযোগ করেন, এমপি ক্ষমতার জোরে দীর্ঘদিন মাছ ধরতে দেননি। পুকুর কি তার? পুকুর টেন্ডার নিয়ে তিনি মাছ চাষ করছেন। নিজের পুকুরের মাছ নিজে বিক্রি করেছেন। লুট করার প্রশ্নই আসে না।