বটের ভেষজ ব্যবহার

প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০১৯

লেখা ও ছবি : মোকারম হোসেন

বৃক্ষ হিসেবে বটের অবদান পাহাড়সম। শুধু তা-ই নয়, বট আবহমান বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যেরও বাহক। এসব কথা আমরা সবাই কমবেশি জানি। কিন্তু বটের যে চমৎকার ঔষধি গুণ আছে, তা আমরা অনেকেই জানি না। সাধারণত আমাতিসার, নাক থেকে রক্ত পড়া, শুক্রতারল্য, মেদ, রক্তপ্রদাহ ও ফোড়ায় বটের কুঁড়ি, কচিপাতা, ছাল ও আঠা ব্যবহারের প্রচলন রয়েছে। পিত্ত বিকার বা আমাতিসারের ক্ষেত্রে বটের দুটি কুঁড়ি বেঁটে আতপ চাল ধোয়া পানিতে মিশিয়ে পরিমাণমতো খাওয়ালে উপকার পাওয়া যায়। সর্দিজনিত কারণে নাক থেকে রক্ত পড়লে বটের কুঁড়ি, ঝুরি ও ছাল ৮-১০ গ্রাম পরিমাণ নিয়ে চার কাপ

পানিতে সেদ্ধ করে এক কাপ থাকতে নামিয়ে ছেঁকে একটু দুধ মিশিয়ে খেলে সেরে যায়। শুক্রতারল্যে বটের আঠা ৩০-৪০ ফোঁটা দুধে মিশিয়ে সকাল-বিকেল খেতে হয়। মেদ কমাতে ৫-৬ গ্রাম পরিমাণ বটের ছাল থেঁতো করে এক কাপ গরম পানিতে ভিজিয়ে রেখে পরের দিন ছেঁকে সকাল-বিকেল দু'বার খেলে উপশম হয়। ফোড়া পাকাতে বা ফাটাতে না চাইলে সে ক্ষেত্রে বটের কচিপাতা বেঁটে প্রলেপ দিলে ফোড়া বসে যায়।

বটগাছ চিনতে প্রায়ই আমাদের একটা ঝামেলায় পড়তে হয়- কোনটা বট, কোনটা বোধি বা অশ্বত্থ, কোনটা পাকুড়? তবে তিন প্রজাতির মধ্যে বটগাছ অনেকটা সহজেই চেনা যায়। সারাদেশে এরা সংখ্যায়ও বেশি। খুব অল্প বয়স থেকেই ঝুরি নামতে শুরু করে। মাটির সমান্তরালে বাড়তে থাকা ডালপালার ঝুরিগুলো একসময় মাটিতে গেঁথে গিয়ে নিজেরাই একেকটা কাণ্ডে পরিণত হয়। এভাবেই বটগাছ ধীরে ধীরে চারপাশে বাড়তে থাকে এবং একসময় বিশাল মহীরুহে পরিণত হয়। বটের পাতা ডিম্বাকৃতির (আগা গোলাকার), মসৃণ এবং উজ্জ্বল সবুজ। কচিপাতার রঙ তামাটে।

তবে আবহাওয়া, পরিবেশ, মাটির গুণাগুণ, পরিসর ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধায় তারতম্য ঘটলে পাতার গড়ন ও আকৃতিতে নানা পরিবর্তন হতে পারে। আবার বেশি বয়সের গাছের পাতা আকারে কিছুটা ছোট হয়ে আসে। বটের কুঁড়ির রঙ পাঁশুটে হলুদ। বসন্ত থেকে শরৎকাল অবধি গাছে নতুন পাতা গজায়। গ্রীষ্ফ্ম, বর্ষা ও শীতকালে ফল পাকে। এ ফল কাক, শালিক ও বাদুড়ের প্রিয় খাদ্য। বটের কষ, বাকল ও পাতা নানা কাজে লাগে। আমাদের দেশে ঝিনাইদহ জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার মল্লিকপুরের বটগাছটি সবচেয়ে বড়। বটের বৈজ্ঞানিক নাম ঋরপঁং নবহমযধষবহংরং।