বিজিএমইএ ভবন থেকে মালপত্র সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে

প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০১৯

সমকাল প্রতিবেদক

বিজিএমইএ ভবনে এখনও কিছু প্রতিষ্ঠানের বহু মালপত্র রয়েছে। সেসব সরিয়ে নিতে গতকাল বৃহস্পতিবার ৮ ঘণ্টার জন্য রাজধানীর হাতিরঝিলের আলোচিত ভবনটি খুলে দেয় রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। আটকে থাকা মালপত্র সরিয়ে নিতে ভবনটি এক সপ্তাহ খোলা রাখতে আবেদন করে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। তবে তালাবদ্ধ ভবনটি ৮ ঘণ্টার বেশি খোলা রাখতে রাজি হয়নি রাজউক। সকাল ৯টায় খুলে দেওয়ার পর বিকেল ৫টায় আবার মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। এখনও বহু মালপত্র ভবনের ভেতরে রয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।

এদিকে ভবনটি ভাংতে আরও এক বছর সময় বাড়ানোর আবেদন এবং ভবনটিকে বিশেষায়িত হাসপাতাল হিসেবে ব্যবহারের আলোচনা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম তার কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, বিজিএমইএ ভবনটি ভাঙার বিষয়ে আদালতের সিদ্ধান্ত রয়েছে। ভবনটি না ভাঙার বিষয়ে কোনো আবেদন আদালতে উপস্থাপন করা হলে সে বিষয়ে আপিল বিভাগই সিদ্ধান্ত দেবেন। তবে আদালত এ ক্ষেত্রে নমনীয় হবে বলে মনে করেন না তিনি।

গতকাল ভবনটি খুলে দেওয়া প্রসঙ্গে রাজউকের পরিচালক খন্দকার

ওলিউর রহমান সমকালকে বলেন, তারা ৮ ঘণ্টা সময় দিয়েছেন। এর মধ্যে যতটুকু সম্ভব মালপত্র সরিয়ে নিয়েছে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। বাকিগুলো সরিয়ে নিতে নতুন করে সময় দেওয়া হবে কি-না- এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'সেটা পরে বিবেচনা করা হবে। তবে কারও জন্য আর দীর্ঘ সময় ধরে ভবনটি খুলে রাখা সম্ভব নয়। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান ভবনের ফ্লোরের টাইলসও খুলে নিতে চায়। এটা ঠিক না।'

ভবনটির ১০ থেকে ১৪ তলা পর্যন্ত এই চারটি ফ্লোরে ছিল পোশাক খাতের বড় প্রতিষ্ঠান ডিবিএল গ্রুপের প্রধান কার্যালয়। তাদের মালপত্রই বেশি আটকা পড়েছে ভবনে। জানতে চাইলে ডিবিএল গ্রুপের চেয়ারম্যান আবদুল ওয়াহেদ সমকালকে বলেন, গতকাল ৭০০ লোক দিয়ে মালপত্র সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন তারা। আপাতত তাদের দুটি কারখানার কার্যক্রম বন্ধ রেখে সেখানে মালপত্র সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। সব মাল সরিয়ে নিতে আরও দুই-তিন দিন লাগবে। এ জন্য তারা রাজউকের কাছে সাত দিন সময় চেয়ে আবেদন করেছেন। তার আশা, আবারও সময় দিয়ে ভবন খুলে দেবে রাজউক। ভবন খুলে দিতে কোনো আবেদন করেনি বিজিএমইএ। তবে খোলা পাওয়ায় কিছু মাল সরিয়ে নিয়েছেন সংগঠনের কর্মকর্তারা।

গত সোমবার ভবনটি ভাঙার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দখল বুঝে নেয় রাজউক। ওই দিন সকাল থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ভবন থেকে মালপত্র সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। এর পর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ভবনটি তালাবদ্ধ করে রাজউক। ভবন ভাংতে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে ইতিমধ্যে। ভবনটি কারা ভাংবে এবং কীভাবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে আগামী বৃহস্পতিবার।

ভূমির মালিকানা স্বত্ব না থাকা এবং ইমারত বিধিমালা ও জলাধার আইন ভঙ্গ করার দায়ে ২০১১ সালের ৩ এপ্রিল হাতিরঝিলের বিজিএমইএ ভবনকে অবৈধ ঘোষণা করে এটি ভেঙে ফেলার রায় দেন হাইকোর্ট।