চার বছরের প্রকল্প সাড়ে তিন বছরে বাস্তবায়ন ৪ শতাংশ

প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০১৯

সমকাল প্রতিবেদক

চার বছর মেয়াদি প্রকল্পের সাড়ে তিন বছরে অগ্রগতি মাত্র চার ভাগ। কোরিয়ান সরকারের আর্থিক সহযোগিতায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল স্থাপনের এই প্রকল্পের ব্যয় এক হাজার ৩৬৬ কোটি টাকা। ১৩ তলাবিশিষ্ট হাসপাতালটিতে থাকবে এক হাজার শয্যা।

২০১৬ সালের জানুয়ারিতে এ প্রকল্প শুরু হয়। চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর এর মেয়াদ শেষ হচ্ছে। প্রকল্পের শেষ পর্যায়ে এসে বাস্তবায়ন অগ্রগতির এ করুণ চিত্র দেখে ক্ষুব্ধ অনুমিত হিসাব সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি। একজন চিকিৎসককে কেন এ প্রকল্পের পরিচালক করা হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কমিটির সদস্যরা। কমিটির পরবর্তী বৈঠকে এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা করতে প্রকল্প পরিচালককে (পিডি) উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে 'বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) অধীনে সুপার স্পেশালাইজড হসপিটাল স্থাপন' প্রকল্প নিয়ে আলোচনায় এসব বক্তব্য উঠে আসে। একাধিক সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে। চলতি সংসদের অনুমিত হিসাব সম্পর্কিত কমিটি গতকালই প্রথম বৈঠকে বসে। এতে স্বাস্থ্য, পুষ্টি, জনসংখ্যা ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের চলমান প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি নিয়ে প্রতিবেদন দেওয়া হয়। তবে এই একটি প্রকল্প নিয়েই বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি মো. আব্দুস শহীদ সমকালকে বলেন, চার বছর মেয়াদি প্রকল্পের শেষ বছরে এসে যদি দেখা যায় বাস্তবায়ন মাত্র চার ভাগ, তাহলে তা মোটেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এখানে নিশ্চয়ই গাফিলাতি রয়েছে। ২০১৮ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও উদ্বোধন করেন, তখনও বলা হয়েছে ৬০ ভাগ কাজের কথা। প্রকল্প পরিচালক সম্পর্কে তিনি বলেন, কমিটির বৈঠকে বলা হয়েছে, কোনো কাজ সুষ্ঠুভাবে করতে অতীতে সেই কাজে যুক্ত ছিলেন, এমন কাউকেই দায়িত্ব দেওয়া উচিত। একজন চিকিৎসকের অবকাঠামো নির্মাণের অভিজ্ঞতা থাকার কথা নয়। কমিটির পরবর্তী বৈঠকে প্রকল্প পরিচালককে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে বলে জানান তিনি।

তবে প্রকল্প পরিচালক ডা. জুলফিকার রহমান খান সমকালকে বলেন, প্রকৃতপক্ষে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে ২০১৮ সালের জুলাইয়ে। তখন থেকে ৩০ মাসের মধ্যে প্রকল্প শেষ হবে। তিনি দাবি করেন, এর বাস্তবায়ন অগ্রগতি বর্তমানে ১০ ভাগ।

প্রকল্প পরিচালক জানান, কোরিয়ান সরকারের সম্পূর্ণ অর্থায়নে এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। এর কারিগারি পরামর্শকও তারা। এই এক প্রকল্পেই তাদের ছয়জন কারিগরি পরামর্শক রয়েছে। এ ছাড়াও পৃথক আরেকটি কমিটি রয়েছে। যারা কোনো সমস্যা হলে বুয়েটের কাছ থেকে পরামর্শ নিচ্ছে। চিকিৎসক হিসেবে তিনি প্রকল্প পরিচালক হলেও তাতে কোনো সমস্যা হচ্ছে না বলে মনে করেন ডা. জুলফিকার। তার দাবি, লজিস্টিক সাপোর্ট দেওয়া ছাড়া অন্যসব কাজ কোরিয়ানরাই করছে। এটা প্রকল্পের শর্তের মধ্যেও রয়েছে।

কমিটির সভাপতি মো. আব্দুস শহীদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে আরও অংশ নেন কমিটি সদস্য ও সংসদের চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী, এ বি তাজুল ইসলাম, শেখ ফজলে নূর তাপস, বজলুল হক হারুন, আহসান আদেলুর রহমান ও ওয়াসিকা আয়শা খান।

গত বছরের ১৩ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ কোরিয়ার সহযোগিতায় নির্মাণাধীন এই হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বৈঠকের পর সংসদ সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল নির্মাণের প্রকল্প সম্পর্কিত যাবতীয় তথ্য আগামী দুই মাসের মধ্যে কমিটিতে পাঠাতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রকল্প পরিচালককে আগামী বৈঠকে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। এ ছাড়াও কমিটি যে কোনো প্রকল্প পরিচালক নিয়োগের আগে প্রকল্প-সংশ্নিষ্ট কাজে অভিজ্ঞ ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়ার সুপারিশ করেছে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের উত্তর পাশের তিন দশমিক আট একর (প্রায় ১২ বিঘা) জমির ওপরে দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের সহযোগিতায় নির্মিত হচ্ছে সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল।