বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক চাল রফতানি করতে চান মিল মালিকরা

প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০১৯

সমকাল প্রতিবেদক

দেশে চাহিদার তুলনায় চালের মজুদ বেশি রয়েছে- এমন তথ্য তুলে ধরে চাল রফতানির প্রস্তাব দিয়েছেন চালকল মালিকরা। চাল রফতানি না করলে কৃষকরা ধানের ন্যায্যমূল্য পাবেন না বলেও যুক্তি দিয়েছেন তারা। তাদের এ প্রস্তাবে সম্মতি না দিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেছেন, দেশে ধান-চালের উৎপাদন ও চাহিদা সম্পর্কে কৃষি ও খাদ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবেন তিনি। তার আগে চাল রফতানি নিষিদ্ধই থাকবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে চালকল মালিকরা বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে চাল রফতানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার প্রস্তাব করেন। তারা বলেন, রফতানি করা না গেলে দেশে

চালের দাম কমে যাবে। তখন কৃষক ন্যায্যমূল্য পাবে না। বিদ্যমান রফতানি নীতি আদেশ অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে চাল রফতানি নিষিদ্ধ। তবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বিশেষ অনুমোদন নিয়ে সুগন্ধি চাল রফতানি করার বিধান রয়েছে।

ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকের পর বাণিজ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, চালকল মালিকরা একটা হিসাব দিয়ে বলেছেন, দেশে যে পরিমাণ চালের প্রয়োজন, বর্তমানে তার চেয়ে অনেক বেশি রয়েছে। এ অবস্থায় চাল রফতানি না করলে দাম আরও কমে যাবে। এতে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। কয়েক দিন আগে চালের দাম বৃদ্ধির ব্যাখ্যা চাইলে ব্যবসায়ীরা বলেছেন, তখন চালের দাম বাড়ানো ঠিক হয়নি। চাল তখনও ছিল, এখনও আছে।

টিপু মুনশি বলেন, চাল রফতানির সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আরও আলাপ-আলোচনা করতে হবে। আসলে দেশে চালের চাহিদা কত, কী পরিমাণ মজুদ আছে তা নির্ধারণ করার পরেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কারণ চালকল মালিকরা যে হিসাব দিচ্ছেন, তা সঠিক কি-না

দেখতে হবে। তারা বললেই মেনে নেওয়া যাবে না। সরকারের স্টাডি থাকতে হবে। এখন চাল রফতানির সুযোগ দেওয়ার কয়েক দিন পরেই যদি দেশের ভেতরে দাম বেড়ে যায়, তাহলে দেওয়া হবে না। দুর্যোগে চাষাবাদ

ক্ষতিগ্রস্ত না হলে বাংলাদেশে মোটামুটি চাহিদার সমান ধান-চাল উৎপাদন হয়। ২০১৬ সালে সরকারি গুদাম ফাঁকা করার জন্য বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো ৫০ হাজার টন চাল রফতানি করেছিল। পরের বছর আগাম বন্যায় হাওরে ও ব্লাস্ট রোগে সারাদেশে ধান উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় চালের সংকটে পড়ে বাংলাদেশ। ওই সময় মিয়ানমার, ভারত, থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশ থেকে চাল আমদানি করে সংকট কাটাতে হয়েছে।

সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, চাহিদার তুলনায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য অনেক বেশি মজুদ রয়েছে, তাই আসন্ন রমজান মাসে পণ্যের দাম বাড়বে না। পণ্য আনা-নেওয়ার রাস্তায় যেন কোনো ধরনের চাঁদাবাজি না হয়, সে জন্য সংশ্লিষ্টদের শিগগিরই চিঠি দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাজারদর নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভোজ্যতেল, চিনি, ডাল, ছোলা, পেঁয়াজ ও খেজুর টিসিবির মাধ্যমে শিগগিরই বিক্রি করা শুরু হবে। রমজানে পণ্যের দাম তেমন বাড়বে না। কারণ মজুদসহ সব ধরনের প্রস্তুতি আছে। বাজার মনিটরিংয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মনিটরিংয়ের সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ও বাজার মনিটর করবে। কোনো ব্যবসায়ী রমজানকে কেন্দ্র করে সুযোগ নিচ্ছে কি-না সে বিষয়ে নজর রাখা হচ্ছে। পণ্য আনা-নেওয়ার পথে যেন চাঁদাবাজি না হয়, সে বিষয়টি শক্ত হাতে দমন করা হবে। দু-একদিনের মধ্যেই সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিভাগে চিঠি দেওয়া হবে, যাতে পথে চাঁদাবাজি কোনোভাবেই না হয়। চাঁদাবাজিটা হয়তো শতভাগ বন্ধ করা যাবে না, তবে এ বিষয়টি শক্তভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে।