জরায়ু ক্যান্সার হলে

প্রকাশ: ০৭ জানুয়ারি ২০১৯      

ডা. শেখ গোলাম মোস্তাফা, অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, রেডিয়েশন অনকোলজি বিভাগ, এনাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, সাভার, ঢাকা।

নারীদের মধ্যে যত ক্যান্সার হয়, তার এক-চতুর্থাংশই জরায়ুমুখের ক্যান্সার। এই ক্যান্সারের প্রবণতা উন্নত বিশ্বের তুলনায় উন্নয়নশীল দেশে বেশি। মূল কারণগুলো হচ্ছে- সচেতনতার অভাব, লজ্জা, নিম্ন-আর্থসামাজিক অবস্থা, পরিচ্ছন্নতার অভাব, অল্প বয়সে বিয়ে এবং সন্তান প্রসব, অধিক সংখ্যক যৌনসঙ্গী, যা এইচপিভি ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কা বাড়িয়ে দেয়। এসব কারণের মধ্যে একটি কারণ প্রশ্নাতিতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। সেটা হচ্ছে এইচপিভি ভাইরাস সংক্রমণ। আর এ সংক্রমণ হয়ে থাকে অধিক সংখ্যক পুরুষের সঙ্গে মেলামেশার কারণে।

জরায়ুমুখের ক্যান্সারে আক্রান্ত ১০০ রোগীকে পরীক্ষা করে ৯৯ জনের জরায়ুমুখে এইচপিভি ভাইরাসের জেনম পাওয়া গেছে। অন্য সব ক্যান্সারের মতো জরায়ুমুখের ক্যান্সারে মৃত্যুঝুঁকি খুব বেশি। তবে সূচনায় নির্ণয় করা গেলে এই ক্যান্সারও নিরাময় করা সম্ভব। বর্তমানে এই ক্যান্সার নির্ণয়ের জন্য সারাবিশ্বে প্যাপানিকুলা (পিএপিএস) টেস্ট নামে একটি সহজ পরীক্ষা চালু আছে। এই পরীক্ষা বাংলাদেশের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে করা হচ্ছে। এ ছাড়া ভায়া (ভিআইএ) টেস্টের মাধ্যমেও প্রাথমিক পর্যায়ে এই রোগ নির্ণয় করা যায়। এই রোগীর প্রাথমিক লক্ষণ হচ্ছে অনবরত সাদাস্রাব ভাঙা, কখনও বা একটু রক্তমিশ্রিত অথবা যৌন মিলনে সামান্য রক্তপাত হওয়া। এই লক্ষণগুলোর কোনো একটি দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে পরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন যে ক্যান্সার হয়েছে কি-না। প্রাথমিক পর্যায়ে ১ ও ২ নম্বরে সার্জারি ও রেডিওথেরাপি, দ্বিতীয় পর্যায়ে ২বি, ৩ নম্বরে রেডিওথেরাপি ও কেমোথেরাপি এবং চতুর্থ পর্যায়ে কষ্ট লাঘব, ব্যথা উপশম ও জটিলতার চিকিৎসা দেওয়া হয়। অতিসম্প্রতি এইচপিভি ভাইরাস প্রতিষেধক টিকা বেরিয়েছে। বাংলাদেশেও এ টিকা পাওয়া যাচ্ছে। কিশোরী বয়সে, বিশেষ করে ৯ থেকে ১৩ বছর বয়সে এই টিকার তিনটি ডোজ নিলে তা জরায়ু ক্যান্সার প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করবে। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে এই ক্যান্সার সম্পূর্ণ ভালো হওয়া সম্ভব। তাই শুরুতেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন, চিকিৎসা নিন, ভালো থাকুন।