মলাটবন্দি ফেরদৌসী মজুমদারের 'যা ইচ্ছা তাই'

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০১৮      

সমকাল প্রতিবেদক

'যখন যে ঘটনা, যে বিষয়, যে মানুষ আমার মনে দাগ কেটেছে, আমাকে একটু হলেও ভাবিয়েছে, সেটাই আমি কাগজে-কলমে বন্দি করেছি। যা কিছু অদ্ভুত, যা কিছু বিস্ময়কর, যা কিছু আমি আগে কখনও দেখিনি, শুনিনি, সেটাই আমাকে নাড়া দেয়। আর সেটাই যে আমি কখন লিখে ফেলি নিজেও জানি না। ভোরের আলোতে, নানান পাখির ডাকে, মিষ্টি বাতাসে আমার লিখতে ভালো লাগে। শুধু ভালো লাগার জন্যেই লেখা।'

অল্প কথায় এভাবেই নিজের লেখালেখির আদ্যোপান্ত বর্ণনা করেন বাংলা মঞ্চের কিংবদন্তি অভিনেত্রী ফেরদৌসী মজুমদার। জার্নিম্যান থেকে প্রকাশিত 'যা ইচ্ছা তাই' বইটির প্রকাশনা উৎসব হয়েছে শুক্রবার। শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হয়ে এসেছিলেন ফেরদৌসী মজুমদারের শিক্ষক জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। অতিথি ছিলেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান, নাট্যজন নাসির উদ্দীন ইউসুফ, ইত্তেফাক সম্পাদক তাসমিমা হোসেন, কথাসাহিত্যিক আনিসুল হক, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব মুহম্মদ জাহাঙ্গীর ও সানবিম স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা নীলুফার মঞ্জুর। স্বাগত বক্তব্য দেন নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার।

নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে ফেরদৌসী মজুমদার বলেন, আমি যা লিখি, জীবন থেকে লিখি। অতি সত্য কথা উচ্চারণ করি। পরিবারের উৎসাহে যখন লিখতে শুরু করেছি, তখন দেখি সময় ফুরিয়ে এসেছে। তারপরও লেখার চেষ্টা করব। সবার কাছে আমার চাওয়া- আমার জন্য প্রার্থনা করবেন। আমি যেন সুস্থ, সবল ও সচল হয়ে থাকতি পারি। যেন মাথাটা কাজ করে।

আনিসুজ্জামান বলেন, এই বইয়ের ৭৯ নম্বর পৃষ্ঠায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথাটা লিখেছেন। ফেরদৌসী লিখেছেন, ''রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'বিসর্জন' আনিস স্যার কী ভালো পড়াতেন।'' বাংলা মঞ্চের এত বড় শক্তিশালী অভিনেত্রী যখন

বলেছেন আমি ভালো পড়াই, সেটা সত্যিই গর্বের।

শামসুজ্জামান খান বলেন, এটি কোনো সাধারণ বই নয়। নাটকের ছাত্রছাত্রীদের জন্য বইটি পড়া উচিত। নাসির উদ্দীন ইউসুফ বলেন, গুরুত্বপূর্ণ এই বইটিতে তার যাপিত জীবনের পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া যায়। তিনি পরিবার ও সমাজকে যেমন করে দেখেছেন, নানা আন্দোলন, সমাজ পরিবর্তন, রাষ্ট্র পরিস্থিতি তিনি কেমন করে দেখেছেন- তা উঠে এসেছে 'যা ইচ্ছা তাই' বইটিতে।

রামেন্দু মজুমদার বলেন, ফেরদৌসীর লেখার ভঙ্গি

একেবারে আলাদা। সে সহজ করে লিখে। বাচ্চাদের জন্য বেশকিছু

বই অনুবাদ করেছে সে। আমরা চাইব, ফেরদৌসী অভিনয়ের পাশাপাশি লেখালেখির দিকে আরেকটু মন দেবে।