ক্লিনিকে ভুল চিকিৎসায় নারীর মৃত্যু

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০১৮      

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার

আশুলিয়ায় মমতাজ উদ্দিন জেনারেল হাসপাতালে ভুল অপারেশনে এক নারীর মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া

গেছে। এ ঘটনায় শুক্রবার থানায় মামলা দায়েরের পর থেকে অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. মুদ্দাচ্ছির মাহমুদ,

ডা. এমতাজুল এবং হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুবেল ওয়াহিদ পলাতক রয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাতে পলাশবাড়ি এলাকার ওই ক্লিনিকের চিকিৎসকরা টনসিল অপারেশন করতে গেলে এ ঘটনা ঘটে। ওই নারীর নাম লাইলী বেগম। তিনি স্থানীয় ডেণ্ডাবর নতুনপাড়া এলাকার আবুল কাশেমের স্ত্রী।

লাইলির স্বামী আবুল কাশেম জানান, দীর্ঘদিন ধরে তার স্ত্রী ঠাণ্ডাজনিত টনসিল রোগে ভুগছিলেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে তাকে মমতাজ জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক এমতাজুলের

কাছে নিয়ে যান। তিনি তাকে জাতীয় নাক,

কান, গলা ইনস্টিটিউট হাসপাতালের ডা. মুদাচ্ছির মাহমুদের কাছে নিয়ে যান।

এ সময় ডা. মুদাচ্ছির তার স্ত্রীকে অপারেশনের পরামর্শ দেন। তখন তিনি হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুবেল ওয়াহিদের কাছে অপারেশন

চার্জের বিষয়ে জানতে চান। এ সময় তিনি ১২ হাজার টাকা খরচ হবে বলে জানালে তিনি নয় হাজার টাকায় অপারেশন করাতে রাজি হন। পরে রাত ৮টার দিকে নাক কান গলা বিশেষজ্ঞ ডা. মুদাচ্ছির ও ডা. এমতাজুল তার স্ত্রী লাইলীকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যান।

সেখানে প্রায় ২ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও চিকিৎসক কিংবা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের রোগীর বিষয়ে কিছু জানাননি। এ অবস্থায় উদ্বিগ্ন হয়ে তারা হাসপাতালের নার্সদের কাছে অপারেশন সম্পর্কে জানতে চাইলে তারাও কিছু জানাতে পারেননি। তাদের আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে স্বজনদের সঙ্গে নিয়ে তিনি অপারেশন থিয়েটারে প্রবেশ করেন।

এ সময় অপারেশন টেবিলের ওপর লাইলীকে পড়ে থাকতে দেখেন। তখন অচেতন অবস্থায় তার নাক ও মুখ দিয়ে রক্ত ঝরছিল। এ সময় অপারেশন থিয়েটারে কাউকে না

পেয়ে তিনি হাসপাতাল পরিচালকের কক্ষে যান। কিন্তু সেখানে গিয়ে তালা ঝুলতে দেখেন। এরপর তিনি স্ত্রীর মৃত্যুর কথা আশুলিয়া থানা পুলিশকে অবহিত

করেন। পুলিশ এসে হাসপাতাল থেকে লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপতালের মর্গে পাঠায়।

সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আমজাদুল হক বলেন, ঘটনাটি আমাদের নজরে এসেছে। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব। কী কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ব্যাপারে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কাউকে পাওয়া যায়নি। আশুলিয়া থানার ওসি আবদুল আউয়াল জানান, এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং দায়িত্বরত চিকিৎসকদের অভিযুক্ত করে অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।