বায়োকেমিস্টদের পেশাগত সুরক্ষায় নীতিমালা জরুরি

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০১৮      

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

দেশে মানসম্মত চিকিৎসা ব্যবস্থা গড়ে তোলা খুবই জরুরি। এর জন্য প্রয়োজন সমন্বয়ের। যেমন ক্লিনিক্যাল বায়োকেমিস্ট সরাসরি একটি রিপোর্ট তৈরি করেন, তিনি সেই রিপোর্টে সই করবেন। অন্যদিকে একজন ডাক্তারও অবশ্যই সই করবেন। রিপোর্টে দু'জনেরই সই থাকা দরকার।

গতকাল শুক্রবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) মিলনায়তনে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ক্লিনিক্যাল বায়োকেমিস্টের (বিএসিবি) মেম্বার ডিরেক্টরি প্রকাশ ও বার্ষিক সাধারণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম আনোয়ার হোসেন এসব কথা বলেন।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও বিএসিবির সভাপতি অধ্যাপক ড. ইমরান কবিরের সভাপতিত্বে দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে 'বাংলাদেশে স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সেবায় ক্লিনিক্যাল বায়োকেমিস্টদের ভূমিকা' শীর্ষক মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অণুবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. হোসেন উদ্দিন শেখর। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি ডা. এম ইকবাল আর্সলান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস বাংলাদেশের ব্যুরো প্রধান জুলহাস আলম, বিএসিবির সদস্য অধ্যাপক ড. সোহেল আহমেদ প্রমুখ। অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বিএসিবির সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন।

মূল বক্তব্যে হোসেন উদ্দিন শেখর বলেন, ল্যাবরেটরিগুলোয় রিপোর্ট স্বাক্ষরের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যনীতিতে সুনির্দিষ্টভাবে রিপোর্ট স্বাক্ষরকারীবিষয়ক কোনো নীতিমালা নেই। ফলে বায়োকেমিস্টগণকে পেশাগতভাবে বিব্রতকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়। আমেরিকা, ইউরোপ, এশিয়াসহ বিশ্বের প্রায় সব দেশে বায়োকেমিস্টরা ক্লিনিক্যাল ল্যাবরেটরিগুলোতে প্রতিষ্ঠিত এবং তাদের স্পেশালিটি ও ল্যাবরেটরি পরীক্ষার রিপোর্টে স্বাক্ষরের অধিকার রয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে মেডিকেল বায়োকেমিস্ট বা ল্যাবরেটরি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা ল্যাবরেটরিতে খণ্ডকালীন কাজ করেন, ফলে পরীক্ষার মান যথাযথভাবে যাচাই করার মতো পর্যাপ্ত সুযোগ থাকে না। তাই যাচাই ব্যতীত রিপোর্ট স্বাক্ষর করে থাকেন। ফলে তাদের রিপোর্টে নির্ভরযোগ্য ফল পাওয়া যায় না, যা স্বাস্থ্যসেবার জন্য হুমকিস্বরূপ।

তিনি বলেন, চাহিদার তুলনায় মেডিকেল বায়োকেমিস্ট চিকিৎসকদের সংখ্যা অপ্রতুল। তাই দেশের স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নের স্বার্থে যুগোপযোগী স্বাস্থ্যনীতি প্রণয়নের মাধ্যমে বায়োকেমিস্টদের কর্মপরিধি ও পেশাগত সুরক্ষার জন্য উপযুক্ত নীতিমালা প্রণয়ন করা দরকার।

সভাপতির বক্তব্যে ইমরান কবির বলেন, মেডিকেলের নেতৃত্বে ডাক্তাররা থাকবেন, এটা খুবই স্বাভাবিক। অন্যদিকে চিকিৎসার নতুন সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি সম্পর্কে বায়োকেমিস্টদের ধারণা থাকে। তাই ডাক্তার এবং বায়োকেমিস্ট এ দুইয়ের মধ্যে সমন্বয় করা প্রয়োজন। এখন এটা কীভাবে করা যায়, তা আমাদের দেখতে হবে।

মূল বক্তব্য উপস্থাপনকালে হোসেন উদ্দিন শেখর চারটি দাবি ও প্রস্তাবনা পেশ করেন। সেগুলো হলো- ১. দেশের স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নের স্বার্থে যুগোপযোগী স্বাস্থ্যনীতি প্রণয়নের মাধ্যমে বায়োকেমিস্টদের কর্মপরিধি ও পেশাগত সুরক্ষার জন্য উপযুক্ত নীতিমালা প্রণয়ন করা, ২. মেডিকেল ডায়াগনস্টিক ল্যাবরেটরির লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে বায়োকেমিস্ট বা ক্লিনিক্যাল বায়োকেমিস্ট পদ বাধ্যতামূলক করা, ৩. বায়োকেমিক্যাল, ইমিউনোলজিক্যাল ও মলিকুলার টেস্ট রিপোর্টে স্বাক্ষরের অধিকার ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা প্রদান করা এবং ৪. স্বাস্থ্যনীতি নির্ধারণী যে কোনো পর্যায়ে গঠিত কমিটিতে বিএসিবির অন্তত একজন প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত করা।

অনুষ্ঠানে প্রথমবারের মতো দেশের ৬২৮ জন বায়োকেমিস্টের ডিরেক্টরি প্রকাশ করা হয়। অতিথিরা এর মোড়ক উন্মোচন করেন। সবশেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও র‌্যাফেল ড্রয়ের মাধ্যমে দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।