কোটা আন্দোলনে সরকার উৎখাতের চেষ্টা চলছে রাবি উপাচার্য

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০১৮      

রাবি প্রতিনিধি

কোটা আন্দোলনের নামে ছদ্মবেশে সরকারকে উৎখাতের চেষ্টা চলছে বলে মন্তব্য করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম আবদুস সোবহান। তিনি বলেন, দেশ যখন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত হয়েছে তখন কোটা আন্দোলনের নামে একদল সুযোগসন্ধানী দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিতে লিপ্ত হয়েছে। এ আন্দোলন আর দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বাইরে থেকে কলকাঠি নাড়ানো হচ্ছে।

রাবি উপাচার্য বলেন, 'কোটা সংস্কারের নামে যে পাঁয়তারা চালানো হচ্ছে, তা আসলে কোটা সংস্কার আন্দোলন নয়। সরকার যখন আন্তরিকভাবে বলে যে কোটা বাতিল করে দিয়েছি, তারপর কোনো আন্দোলন থাকার কথা নয়। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি আমাদের কিছু সহকর্মী উস্কানি দিয়ে তাদের (আন্দোলনকারীদের) উৎসাহিত করছে।' শুক্রবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শোভাযাত্রা শেষে আয়োজিত সমাবেশে এসব কথা বলেন অধ্যাপক সোবহান।

তবে উপাচার্যের বক্তব্য নাকচ করে দিয়েছেন কোটা সংস্কার আন্দোলনে ছাত্রলীগের হামলায় আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তরিকুল ইসলাম। উপাচার্যের

বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'আমরা যদি সরকারবিরোধী আন্দোলনই করতাম, তহালে অন্তত সেই সংক্রান্ত স্লোগান থাকত। এ আন্দোলনে আমরা কখনও সরকারবিরোধী কোনো স্লোগান দেইনি এবং সে বিষয়ে অবস্থানও নেইনি। শুরু থেকেই আমরা কোটা সংস্কারের পক্ষে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করে এসেছি।'

এদিকে গতকাল বিভিন্ন আয়োজন ও উৎসবমুখর পরিবেশে ৬৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত হয়েছে। 'এ শুভলগনে জাগুক গগনে অমৃতবায়ু' স্লোগান সামনে রেখে গতকাল গৌরবের ৬৫ বছর উৎসব উদযাপিত হয়। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সকাল ৯টায় প্রশাসন ভবন চত্বরে সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন এবং জাতীয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন করা হয়। এরপর বেলুন-ফেস্টুন এবং পায়রা উড়িয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর উদ্বোধন ঘোষণা করেন উপাচার্য আবদুস সোবহান। উদ্বোধন শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের পাশে বৃক্ষরোপণ করা হয়। এরপর এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, বিভিন্ন হল, বিভাগ, অনুষদের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন।

অধ্যাপক সোবহান বলেন, 'প্রতিষ্ঠার পর থেকেই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের সর্বাঙ্গীণ শিক্ষা ও জ্ঞানের আলোর দিশা দিয়েছে। সেই আলোয় আলোকিত শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা দেশ-বিদেশে গৌরবময় ভূমিকা পালন করছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাফল্য ও গৌরবদীপ্ত ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে হবে।