উত্তরাঞ্চলে আস্তানা গেড়েছে পলাতক পাঁচ জঙ্গি

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০১৮      

কাজী সাব্বির আহমেদ দীপু, মুন্সীগঞ্জ

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখানে লেখক ও প্রকাশক শাহজাহান বাচ্চুকে হত্যায় জড়িত পলাতক পাঁচ জঙ্গি উত্তরাঞ্চলে আত্মগোপনে রয়েছে বলে ধারণা করছে পুলিশ। ওই লেখককে হত্যার জন্য জামা'আতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) জঙ্গিরা সিরাজদীখানের দুর্গম চরাঞ্চলে আস্তানা গাড়লেও কিলিং মিশন বাস্তবায়নের পর তারা গাজীপুরের শ্রীপুরের আস্তানায় থাকে। ওই আস্তানায় পুলিশের অভিযানের আগেই সটকে পড়ে পাঁচ জঙ্গি। তবে সেখান থেকে জেএমবির ঢাকা বিভাগীয় কমান্ডার আবদুর রহমান ওরফে লালুকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়। এরপরই বাচ্চু হত্যাকাণ্ডে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। যদিও গ্রেফতারের চার দিনের মাথায় 'বন্দুকযুদ্ধে' নিহত হয় লালু।

এদিকে বাচ্চু হত্যাকাণ্ডের পর দীর্ঘদিনেও পলাতক অপর আসামিরা গ্রেফতার না হওয়ায় আতঙ্ক কাটছে না বাচ্চুর পরিবারে। তারা বলছেন, সব আসামি গ্রেফতার না হওয়ায় আতঙ্কে তাদের চলাফেরাও সীমিত করে দিয়েছেন। তারা চান, জড়িতরা সবাই আইনের

আওতায় আসুক। এতে অন্তত বাচ্চুর পরিবার স্বস্তি পাবে।

পুলিশ কর্মকর্তারাও বলছেন, পলাতক ওই পাঁচ জঙ্গি নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি। তাদের গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক টিম উত্তরাঞ্চলে অভিযান অব্যাহত রেখেছে। হয়তো তারা শিগগিরই আইনের আওতায় আসবে।

গত ১১ জুন সিরাজদীখানে শাহজাহান

বাচ্চুকে গুলি করে হত্যা করা হয়। প্রাথমিক আলামত বিশ্নেষণে পুলিশ নিশ্চিত হয় ওই হত্যাকাণ্ডের পেছনে জঙ্গিদের হাত রয়েছে। ২৪ জুন গাজীপুরের শ্রীপুরে জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চালিয়ে আবদুর রহমান ওরফে লালুকে গ্রেফতারের পর ঘটনার সত্যতা মেলে। কিলিং মিশনে অংশ নেওয়া চারজনের মধ্যে এই লালুই গুলি করেছিল বাচ্চুকে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সিরাজদীখান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. হেলাল উদ্দিন জানান, আবদুর রহমান ওরফে লালুকে গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া যায়। ওই জঙ্গি বাচ্চু হত্যা ছাড়াও জেএমবির কার্যক্রম নিয়ে তথ্য দেয়। সে জানিয়েছিল, তার নেতৃত্বে কিলিং মিশনে চারজন সরাসরি অংশ নেয় এবং নেপথ্যে আরও দুইজন ছিল। সিরাজদীখানের চরাঞ্চলে তাদের আস্তানায় অভিযানে গেলে ফেরার পথে নিহত হয়েছিল ওই জঙ্গি। তবে তার আগেই তার কাছ থেকে পাওয়া তথ্য নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে।

সিরাজদীখান থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ জানান, জেএমবির ঢাকা বিভাগীয় সামরিক কমান্ডার আবদুর রহমান ওরফে লালু বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ার আগে অনেক তথ্য দিয়েছে। বাচ্চু হত্যায় জড়িত অপর জঙ্গিদের বিষয়ে বিস্তারিত জানাও গেছে। তবে তদন্তের স্বার্থেও পলাতক জঙ্গিদের বিষয়ে তথ্য প্রকাশ করা যাচ্ছে না।

তদন্ত-সংশ্নিষ্ট সূত্র জানায়, বাচ্চু হত্যার পলাতক পাঁচ জঙ্গি উত্তরাঞ্চলে অবস্থান করছে বলে তথ্য রয়েছে। তাদের বাড়িও উত্তরাঞ্চলে। এসব জঙ্গি অপর সহযোগীদের নিয়ে ওই এলাকায় নিজেদের গোপন কার্যক্রম চালাচ্ছে বলেও তথ্য মিলেছে। তবে পুলিশ বসে নেই। পুলিশের একাধিক টিম এ নিয়ে কাজ করছে। ওই সূত্রটি জানায়, আড়াই বছর আগে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় থাকাবস্থায় লেখক ও প্রকাশক

শাহজাহান বাচ্চুকে

হত্যার টার্গেট করে পুরনো জেএমবি। সে সময় জঙ্গিদের হত্যার হুমকির কারণে শাহজাহান বাচ্চু পঞ্চগড় থেকে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখানের কাকালদি গ্রামের বাড়ি চলে আসেন। সেখান থেকেই তার পিছু নেয়

পুরনো জেএমবির জঙ্গিরা। হত্যাকাণ্ডের তিন মাস আগেই জেএমবির ঢাকা বিভাগীয় সামরিক কমান্ডার আবদুর রহমান ওরফে লালু সিরাজদীখানের খাসমহল বালুরচর এলাকায় বাসা ভাড়া নেয়। সেখানেই হত্যার পরিকল্পনা ও ছক তৈরি করা হয়।