পাবনা-ঈশ্বরদী নতুন রেলপথ চালু ১৪ জুলাই উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০১৮      

পাবনা অফিস

অবশেষে অর্ধশত বছর পর পাবনাবাসীর প্রাণের দাবি পাবনা-ঈশ্বরদী রেলপথ চালু হতে যাচ্ছে। ১৪ জুলাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নতুন এ রেলপথের উদ্বোধন করবেন। পরে তিনি পাবনা পুলিশ লাইন্স মাঠে আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় ভাষণ দেবেন। এর আগে বেলা সাড়ে ১১টায় ঈশ্বরদীর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের দ্বিতীয় ইউনিটের আণবিক চুল্লি বসানোর কাজের উদ্বোধন করবেন তিনি।

গতকাল শুক্রবার বিকেলে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আসাদুল হক এসব তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ঈশ্বরদীর মাঝগ্রাম হয়ে ঢালারচর পর্যন্ত প্রকল্পের আওতায় নবনির্মিত ঈশ্বরদী-পাবনা রেল সেকশনে ২৫ কিলোমিটার রেলপথ, সেতু-কালভার্ট, রেলগেট-রেলক্রসিং, ট্রেন চলাচলের সিগন্যাল সম্পূর্ণ প্রস্তুত। প্রধানমন্ত্রী ১৪ জুলাই এটি উদ্বোধন করবেন। তিনি জানান, মোট ৭৮ কিলোমিটার নতুন রেললাইনের বাকি ৫৩ কিলোমিটার দ্বিতীয় ধাপে শেষ হবে চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে।

এতদিন পাবনা জেলার ১১টি থানার মধ্যে ৩টি থানার অল্পসংখ্যক মানুষ রেলপথ সুবিধা পেলেও জেলার মোট জনসংখ্যার বিরাট একটি অংশ এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিল। এখন তার অবসান ঘটবে।

১৯১৪ সালে পদ্মা নদীতে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ চালু হলে সে সময়েই ঈশ্বরদী থেকে পাবনা পর্যন্ত লিংক রোড রেললাইনের দাবি ওঠে। ১৯৭৪ সালে ঈশ্বরদী-পাবনা হয়ে নগরবাড়ী পর্যন্ত রেললাইনের জমি অধিগ্রহণ হয়। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যার পর প্রকল্পটি বন্ধ হয়ে যায়।

৯৮২ কোটি ৮৬ লাখ ৫৬ হাজার টাকা ব্যয়ে ২০০৯ সালে ঈশ্বরদী-পাবনা-ঢালারচর রেললাইন প্রকল্প পাস করা হয়। পরের বছর ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় এক হাজার ৬২৯ কোটি টাকা। ২০১৩ সালের ২ ফেব্রুয়ারি পাবনায় এক জনসভায় এ রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের

পাকশী বিভাগীয় রেলওয়ে প্রকৌশলী-২ আরিফ আহম্মেদ সমকালকে জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করার পর ট্রেনটি 'পাবনা এক্সপ্রেস' নামে চলবে। উদ্বোধনের দিন ইঞ্জিনসহ ছয়টি বগি নিয়ে পাবনা থেকে ঈশ্বরদী পর্যন্ত চলাচল করবে। পরে পাবনা-রাজশাহীর মধ্যেও চলাচল করবে।

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের পাকশি বিভাগীয় ব্যবস্থাপক নাজমুল ইসলাম বলেন, এ রেলপথ চালু হলে উত্তরাঞ্চলের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটের আমূল পরিবর্তন হবে। ব্যবসা-বাণিজ্যে গুণগত পরিবর্তন ঘটবে। রেলপথে স্বল্প খরচে এ অঞ্চলের উৎপাদিত ফসল দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাওয়া সহজ হবে। এ এলাকার জনগণ কম সময়ে কম খরচে যাতায়াত করতে পারবে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রধান প্রকৌশলী রমজান আলী বলেন, পাবনাবাসীর দীর্ঘদিনের একটি স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে এবং ট্রেন চলাচল শুরু হলে এ এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা পূরণ হবে।