শিশুর সুস্থতায় পানি

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০১৮      

ডা. আবু সাঈদ শিমুল

কনসালট্যান্ট

শিশু বিভাগ

ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল

শিশুরা এমনিতেই পানি পান করতে চায় না। কিন্তু গরমে পানি পান না করলে শারীরিকভাবে বিভিন্ন ক্ষতি হতে পারে। শিশুকে কী পরিমাণ পানি পান করাতে হবে, তা জানা প্রয়োজন। শিশুর কতটুকু পানি প্রয়োজন, তা নির্ভর করে শিশুর ওজন ও বয়সের ওপর। ৭ থেকে ১২ মাস বয়সী শিশুর প্রতিদিন আধা লিটার থেকে পৌনে এক লিটার, এক থেকে তিন বছরের শিশুর এক থেকে সোয়া এক লিটার, চার থেকে আট বছরের শিশুর দেড় থেকে দুই লিটার এবং ৯ থেকে ১৬ বছরের শিশুর জন্য দুই থেকে আড়াই লিটার পানি প্রয়োজন। তবে এই পরিমাণটা হলো মোট জলীয় অংশের অর্থাৎ এটা যে পানিই হতে হবে, এমন নয়। যে কোনোভাবে জলীয় অংশ শিশুর

শরীরে গেলেই হলো। ৫ বছরের শিশুকে একসঙ্গে দেড় লিটার পানি খাওয়াতে হবে তা কিন্তু নয়। শিশুকে প্রতিদিন গরুর দুধ খাওয়ানো হলে সেই দুধে শতকরা ৮৭ ভাগই জলীয় অংশ, আনারসে ৮৮ শতাংশ, কলায় ৭০ শতাংশ পানি থাকে। সুতরাং পানি খাওয়ানো হচ্ছে না-এটা ভেবে দুশ্চিন্তা করবেন না। কিন্তু পানির অভাব পূরণের জন্য কোল্ড ড্রিংকস বা বাইরের পেকেটজাত জুস খাওয়াবেন না। কোনো শিশু পানি কম খাচ্ছে কিনা তা প্রাথমিকভাবে বুঝবেন তার প্রস্রাব দেখে। শিশু প্রতিদিন যে পরিমাণ প্রস্রাব করত, পানিশূন্যতা হলে তার চেয়ে কম করবে। পানিশূন্যতার অন্যান্য লক্ষণ হলো- শিশু খুব অস্থির থাকবে, চোখ ভেতর দিকে ঢুকে যাবে, জিহ্বা শুকিয়ে যাবে, নাড়ি বা পালস দুর্বল হবে দ্রুত। ছয় মাসের পর থেকেই কিন্তু শিশুকে বাড়তি পানি খাওয়াতে হবে। এক বছর বয়সে শিশুরা সাধারণত নিজে নিজে পানি খেতে পারে। খিচুড়ি খাওয়ানোর পর এ সময় প্লাস্টিক বা ম্যালামাইনের গ্লাসে পানি দিয়ে দিন। শিশুকে রঙিন আকর্ষণীয় মেলামাইনের বা স্টিলের মগ বা গল্গাসে পানি ঢেলে ধীরে ধীরে পানি খেতে শেখান। দেখবেন পরবর্তীকালে শিশু নিজে থেকেই পানি খাবে। মনে রাখতে হবে, ডায়রিয়া হলে চিকিৎসকের পরামর্শে দৈনিক চাহিদার চেয়ে বেশি পরিমাণে স্যালাইন ও পানি খেতে হবে। শিশুর যে কোনো অসুস্থতাতেও বেশি পরিমাণে পানি খাওয়াতে ভুলবেন না যেন।