অবশেষে শিশু পার্ক হচ্ছে সুরভী উদ্যানে

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০১৮      

ইকবাল হোসেন, রংপুর

দুই যুগেরও বেশি সময় পর রংপুর কালেক্টরেট সুরভী উদ্যানকে শিশুবান্ধব পার্ক হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। ওয়াকওয়ে বা হাঁটার পথ তৈরিসহ অত্যাধুনিক রাইড সংযুক্ত করে শিশুদের বিনোদনের জন্য মনোরম পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে উদ্যানে কাজ শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড সুরভী উদ্যানকে নতুন করে সাজাতে ৬৯ লাখ ৩২ হাজার ৯৭৪ টাকা বরাদ্দ করেছে। প্রশাসনের এ পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছে নগরবাসী।

রংপুর জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ৩০ লাখেরও বেশি মানুষের বসতি রংপুরে। এখানকার মানুষের বিনোদনের জন্য সরকারি-বেসরকারিভাবে বিনোদন উদ্যান চিড়িয়াখানা, ভিন্ন জগৎ, চিকলি বিল, ঘাঘট সেনা বিনোদন পার্ক, আনন্দনগর হলেও সেখানে শিশুদের বিনোদনের বিষয়টি প্রায় উপেক্ষিত রয়েছে। এগুলোর মধ্যে যতটুকু রয়েছে, ততটকুতে কর্তৃপক্ষ বাণিজ্যিকীকরণের দিকটি প্রাধান্য দিয়েছে। জেলার শিশুদের বিনোদনের জন্য দীর্ঘদিনের আন্দোলন ছিল সচেতন মহলসহ শিশু সংগঠনগুলোর।

রাধাবল্লভ মৌজায় পাঁচ একর জমির ওপর ১৯৯০ সালে সুরভী উদ্যানের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তৎকালীন জেলা প্রশাসক এএসএম মোবাইদুল ইসলাম। এর পর ১৯৯৮ সালে বৃক্ষরোপণ ও উদ্যানের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে কাজ শুরু করেন জেলা প্রশাসক মোয়াজ্জেম হোসেন। মূলত শিশুদের জন্য নগরীর মাঝখানে এ উদ্যানটি তৈরি করা হয়। নির্মাণের পর দীর্ঘদিন অযত্ন-অবহেলায় পড়ে থাকে সেটি। ছোট-বড় গাছপালায় উদ্যানের বিভিন্ন স্থানে ঝোপের সৃষ্টি হওয়ায় মাদকসেবীদের অবাধ বিচরণসহ নানা অসামাজিক কার্যকলাপের কারণে অভিভাবকরা শিশুদের নিয়ে ভেতরে ঢুকতেন না। বিভিন্ন সময় ছিনতাইয়ের ঘটনাও ঘটেছে। এ অবস্থায় সুরভী উদ্যানকে শিশুবান্ধব করতে উদ্যোগ নেয় জেলা প্রশাসন। সাবেক জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান সুরভী উদ্যানের কাজ এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করলেও অর্থের অভাবে তা পারেননি। এরই মধ্যে এক মাস আগে তিনি পদোন্নতি পেয়ে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের পরিচালক হিসেবে যোগদান করেন। নতুন জেলা প্রশাসক হিসেবে যোগদান করেন এনামুল হাবীব। চলতি বছরের জুনে ৬৯ লাখ ৩২ হাজার ৯৭৪ টাকা ট্যুরিজম বোর্ড থেকে সুরভী উদ্যানের জন্য বরাদ্দ পাঠানো হয়। এরই মধ্যে ট্যুরিজম বোর্ডের পরিচালক রংপুরের সাবেক জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান সুরভী উদ্যান পরিদর্শন করে তা ঢেলে সাজাতে নতুন জেলা প্রশাসক এনামুল হাবীবকে নির্দেশনাও দিয়েছেন।

সরেজমিন দেখা গেছে, উদ্যানের মূল ফটকের সামনে লাগানো হয়েছে নানা প্রজাতির ফুল ও শোভাবর্ধনকারী গাছ। উদ্যানের চারপাশে ইট বিছিয়ে সুন্দর হাঁটার রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। উদ্যানটিতে পার্কের জন্য নির্মিত পুকুরটিকে আকর্ষণীয় করে গড়ে তোলার কাজ করা হচ্ছে। পুকুরে সেতু নির্মাণের জন্য ভিত্তি দেওয়া হয়েছে। রাস্তাগুলো বাঁশের ছাউনি দিয়ে আকর্ষণীয় করাসহ উদ্যানের বিভিন্ন স্থানে বসার জায়গাগুলো সংস্কার করে বসার উপযোগী করা হয়েছে। পুরনো দোলনা, মইগুলোকে মেরামত করাসহ রঙ করা হয়েছে।

রংপুর মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট রেজাউল ইসলাম মিলন বলেন, সুরভী উদ্যানকে শিশু পার্ক হিসেবে গড়ে তোলায় রংপুর নগরীসহ আশপাশ এলাকার শিশুদের বিনোদন ব্যবস্থার প্রত্যাশা অনেকটা পূরণ হবে।

সুরভী উদ্যান-সংলগ্ন নিউ ইঞ্জিনিয়ারপাড়ার রেবেকা পারভীন টুকটুকি, সাজদাতুন বেগম ইনু, রিতা আক্তার, মেজবাহুল হিমেলসহ অন্যরা বলেন, প্রশাসন শিশুবান্ধব পার্ক হিসেবে সুরভী উদ্যানকে গড়ে তোলার যে উদ্যোগ নিয়েছে তা অত্যন্ত ভালো। শিশুদের জন্য অত্যাধুনিক রাইডসহ সেখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখার দাবি জানিয়েছেন তারা।

রংপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রবিউল ইসলাম বলেন, জেলা প্রশাসকের নির্দেশক্রমে সুরভী উদ্যানকে পার্ক হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ শুরু হয়েছে। দ্রুত এ কাজ সম্পন্ন করে সবার জন্য উন্মুক্ত করা হবে।

জেলা প্রশাসক এনামুল হাবীব সমকালকে জানান, শিশুদের নির্মল বিনোদনের জন্য রংপুর কালেক্টরেট সুরভী উদ্যানের ভেতরে নির্মিত হচ্ছে শিশু পার্ক। শিশুরা যেন আনন্দ-উৎসব ও খেলাধুলা করতে পারে, সে ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সব বয়সের নারী-পুরুষের হাঁটার জন্য নির্মিত হচ্ছে ওয়াকওয়ে। এ ছাড়া মুক্তিযুদ্ধকে জানার সুযোগও থাকছে নতুন প্রজন্মের জন্য। তিনি বলেন, শিশুদের জন্য পার্কে বিভিন্ন রাইড সংযোজন, পুকুরের কার্যকর ব্যবহার, শোভাবর্ধনকারী গাছ লাগানো, পর্যাপ্ত আলোক সজ্জা, বসার স্থান, গোলঘর তৈরি এবং নারী-পুরুষের জন্য আলাদা টয়লেটের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। উদ্যানের চারপাশে বেষ্টনী তৈরি করে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হবে।