কৃষকদের মধ্যে ক্ষতিপূরণের ২৮ কোটি টাকার চেক বিতরণ শুরু

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০১৮      

পাবনা অফিস

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য অধিগ্রহণ করা জমিতে চাষাবাদকারী কৃষকদের মধ্যে ফসলের ক্ষতিপূরণের টাকার চেক বিতরণ শুরু হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকালে ঈশ্বরদী উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ প্রধান অতিথি হিসেবে প্রথম তালিকার ২০৬ কৃষকের মধ্যে ৮ কোটি টাকার চেক বিতরণ করেন। পর্যায়ক্রমে ৫২৫ কৃষকের মধ্যে ২৮ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণের চেক বিতরণ করা হবে। পাবনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. রুহুল আমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. জসিম উদ্দিন, ঈশ্বরদী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মকলেছুর রহমান মিন্টু, ইউএনও আল মামুন, ভাইস চেয়ারম্যান মাহমুদা খাতুন, ওসি আজিম উদ্দিন, পিপি অ্যাডভোকেট আক্তারুজ্জামান মুক্তা, লক্ষীকুণ্ডা ইউপি চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান শরীফ ও পাকশীর চেয়ারম্যান এনামুল হক বিশ্বাস।

সূত্র জানায়, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য সরকার সর্বশেষ লক্ষীকুণ্ডা ও পাকশী ইউনিয়নের পদ্মা নদীর চরাঞ্চলের ৯৯৬ একর জমি অধিগ্রহণ করে। এসব জমিতে কৃষকরা চাষাবাদ করছিলেন। ফসলের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাসে সেই জমি অধিগ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে ১৯ একর ব্যক্তিমালিকানাধীন, অবশিষ্ট সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত জমি। পাকশী ইউপি চেয়ারম্যান এনাম বিশ্বাস ৯৯৬ একর জমির অধীনে ৬৫০ জন কৃষকের নামে ২৭ কোটি ৩৪ লাখ ৮৭ হাজার ৯৯০ টাকার ক্ষতিপূরণের দাবিতে একটি তালিকা প্রস্তুত করে প্রকল্প অফিস, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসে জমা দেন। পরে এই তালিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তা ছাড়া সরকারি খাস জমির ক্ষতিপূরণের টাকা কীভাবে বিভিন্ন ব্যক্তিকে দেওয়া হবে তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। বিষয়টি নিয়ে সংবাদমাধ্যমেও লেখালেখি হয়। পরে ভূমিমন্ত্রী এ টাকা বণ্টনের জন্য একটি কমিটি গঠন করে দেন। এদিকে কথিত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের টাকা দেওয়া নিয়ে জটিলতার সৃষ্টি হলে তারা মানববন্ধন, ইউএনও এবং ডিসি অফিস ঘেরাও কর্মসূচি পালন করে। চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ বলেন, আইনের বিচার নয়, সম্পূর্ণ মানবিক কারণে এ টাকা বিতরণ করা হচ্ছে। অস্থায়ীভাবে যারা চাষাবাদ করেছে তারা গরিব কৃষক। তাই মানবিক দিক বিবেচনায় ফসলের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হলো। এ ব্যাপারে পাবনার জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, 'আমাদের যে লিস্ট দেওয়া হয়েছিল, তা যাচাই-বাছাই করে মাত্র কয়েকজনকে চেক দিয়েছি। যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদেরই ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। ভুয়াদের দেওয়ার প্রশ্নই আসে না।'