চুরির অভিযোগ পাকুন্দিয়ায় প্রতিবন্ধী কিশোরকে অমানুষিক নির্যাতন

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০১৮      

কিশোরগঞ্জ অফিস

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া পৌরসদর বাজারে স্বর্ণের দোকানে প্রতিবন্ধী এক কিশোরকে মধ্যযুগীয় কায়দায় পিটিয়ে ও শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের মাংস কেটে নির্মম নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। কিশোরের নাম কাউসার (১৭)। সে পাকুন্দিয়া পৌর এলাকার টান লক্ষ্মীয়া গ্রামের ছাইদুল ইসলামের ছেলে। বর্তমানে সে পাকুন্দিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। অভিযুক্ত দোকান মালিকের নাম উজ্জ্বল মিয়া। তিনি পাকুন্দিয়া পৌরসদর বাজারের অপূর্ব স্বর্ণ শিল্পালয়ের মালিক এবং পাকুন্দিয়া পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর।

কাউছারের বাবা ছাইদুল ইসলাম দোকানের মালিক উজ্জ্বল মিয়া, তার ভাই মানিক ও হাপানিয়া গ্রামের জহিরুল ইসলামকে আসামি করে গত বৃহস্পতিবার রাতে পাকুন্দিয়া থানায় একটি অভিযোগ করেছেন।

এলাকাবাসী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুরে প্রতিবন্ধী কাউছার অপূর্ব স্বর্ণ শিল্পালয়ের সামনে দিয়ে যাচ্ছিল। এ সময় স্বর্ণের দোকানের কর্মচারী মনির কাউছারকে দোকানে বসিয়ে রেখে হোটেলে দুপুরের খাবার খেতে যায়। এ সময় উজ্জ্বল মিয়া বাড়ি থেকে দোকানে ফিরে এলে স্বর্ণের আংটি চুরির অভিযোগে কাউছারের ওপর চড়াও হয়। উজ্জ্বল ও মানিক মিয়া কাউছারের হাত-পা বেঁধে লাঠি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত করে। এতে তার বাম হাতের কনুইয়ের নিচের হাড় ভেঙে যায়। ডান হাতের কনুইয়ের নিচে ব্লেড দিয়ে আঁচড়ে জখম করা হয়। এরপর জহিরুল ইসলাম বৈদ্যুতিক তার কাটার প্লায়াস দিয়ে কাউছারের ডান পায়ের তলার মাংস কেটে ফেলে এবং গ্যাসের আগুনে বাম পায়ের তলার মাংস পুড়িয়ে দেয়। ছেলেটির চিৎকারে আশপাশের দোকানিরা দৌড়ে এসে তাকে উদ্ধার করে পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করেন।

দোকানের মালিক উজ্জ্বল মিয়া জানান, কাউছার তার দোকান থেকে তিনটি স্বর্ণের আংটি ও চারটি কানের দুল চুরি করে নিয়ে যায়। এই অলঙ্কার গুলো কোথায় রেখেছে এ ব্যাপারে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে কেবল। তার শরীরে কোনো রকম আঘাত করা হয়নি।

বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পাকুন্দিয়া থানার ওসি আজহারুল ইসলাম সরকার (পিপিএম)।