সিলেট সিটি নির্বাচন কামরানের নির্বাচনী ব্যয় ১৫ লাখ আরিফের সাড়ে ১৪ লাখ টাকা

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০১৮      

মুকিত রহমানী, সিলেট

সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরান প্রায় ১৫ লাখ টাকা নির্বাচনী ব্যয় করবেন। বিএনপির প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী ব্যয় করবেন সাড়ে ১৪ লাখ টাকা। এরমধ্যে কামরান নিজের আয় থেকে ১০ লাখ ও স্বজনদের কাছ আরও ৫ লাখ টাকা নিয়ে ব্যয় করবেন। আরিফ নিজস্ব ব্যবসা, পাওয়া বেতন (মেয়র থাকাকালে) এবং বাসা ভাড়া বাবদ আয় থেকে ওই টাকা নিয়ে ব্যয় করবেন। নির্বাচনী ব্যয়-সংক্রান্ত হলফনামায় এমন তথ্য উল্লেখ করেছেন বড় দুই দলের ওই দুই মেয়র প্রার্থীরা।

নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, সিসিক নির্বাচনে একজন মেয়র প্রার্থী ব্যক্তিগত খরচ সর্বোচ্চ ৭৫ হাজার টাকাসহ নির্বাচনী ব্যয় সর্বোচ্চ ১৫ লাখ টাকা খরচ করতে পারবেন। সিটি করপোরেশন নির্বাচন বিধিমালা অনুযায়ী ওই ব্যয়ের অঙ্ক নির্ধারণ করে নির্বাচন কমিশন। সিসিক নির্বাচনে নির্বাচনী ব্যয় প্রসঙ্গে হলফনামায় বদর উদ্দিন আহমদ কামরান উল্লেখ করেছেন, নির্বাচনে নিজ আয় থেকে তিনি ১০ লাখ টাকা ব্যয় করবেন। আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে 'স্বেচ্ছাপ্রণোদিত দান' হিসেবে ৪ লাখ টাকা পাবেন। এর মধ্যে তার ভায়রা আতিকুর রহমান ও শ্যালক মাহবুবুল হাসান প্রত্যেকে ২ লাখ টাকা করে দেবেন।

হলফনামায় দেওয়া তথ্য মতে, কামরান ৩০ হাজার পোস্টার ছাপাতে ব্যয় করবেন এক লাখ টাকা। ৬টি নির্বাচনী ক্যাম্প পরিচালনায় ৬০ হাজার টাকা ব্যয় করবেন। এসব ক্যাম্পে কর্মীদের জন্য খরচ হবে আরও ৯০ হাজার টাকা। কামরানের কেন্দ্রীয় নির্বাচনী ক্যাম্পের খরচ ১০ হাজার টাকা এবং এ ক্যাম্পের কর্মীদের খরচ ৩৫ হাজার টাকা। নিজের ও তার নির্বাচনী এজেন্টদের যাতায়াতে ব্যয় হবে সাড়ে ৮৭ হাজার টাকা। যাতায়াতের ক্ষেত্রে কর্মীদের ব্যয় বাবদ খরচ হবে ৫০ হাজার টাকা। ঘরোয়া বৈঠক বা সভার জন্য ভেন্যুর ভাড়া ১০ হাজার টাকা, সভা আয়োজনের জন্য শ্রমিকের পারিশ্রমিক ১৫ হাজার টাকা, সভার জন্য আসবাব বাবদ ব্যয় হবে ১০ হাজার টাকা, এক লাখ লিফলেট ও এক লাখ হ্যান্ডবিল ছাপানো বাবদ ব্যয় হবে আড়াই লাখ টাকা, ১৬২টি ব্যানার তৈরি বাবদ ৮১ হাজার ৫শ' টাকা, ব্যানার টানানো বাবদ ১৬ হাজার ২শ' টাকা, ৩০টি ডিজিটাল ব্যানার তৈরিতে ৩০ হাজার টাকা ও সেগুলো টানানোর জন্য ৬ হাজার টাকা, ৩০টি পথসভার ব্যয় হবে ৩০ হাজার টাকা।

এছাড়া নির্বাচনী প্রচারণায় মাইকিং খরচ ১ লাখ ৬৬ হাজার ৫শ' টাকা, প্রতীক তৈরি বাবদ ১০ হাজার টাকা, ৬টি অফিসে আপ্যায়ন বাবদ ১ লাখ ৮ হাজার টাকা, ৬০ জন কর্মীর আপ্যায়নে ১ লাখ ২ হাজার টাকা, মিডিয়ায় প্রচারণা বাবদ ২০ হাজার টাকা ও বিবিধ ক্ষেত্রে ৮০ হাজার টাকা খরচ করার কথা উল্লেখ করেন কামরান।

অপরদিকে আরিফুল হক চৌধুরী ৩০ হাজার পোস্টার ছাপাতে ব্যয় করবেন ১ লাখ ২০ হাজার টাকা, দুটি নির্বাচনী ক্যাম্প স্থাপনে ৩০ হাজার টাকা ও ক্যাম্পে কর্মীদের জন্য ব্যয় ৫০ হাজার টাকা, কেন্দ্রীয় নির্বাচনী ক্যাম্প স্থাপনে ৩০ হাজার টাকা, ক্যাম্পের কর্মীদের জন্য ৫৫ হাজার টাকা, যাতায়াতে তার খরচ হবে ৪০ হাজার টাকা এবং এ ক্ষেত্রে কর্মীদের জন্য ৮০ হাজার টাকা ব্যয় করবেন। ঘরোয়া বৈঠক বা সভা আয়োজনে ভেন্যুর ভাড়া বাবদ ৯০ হাজার টাকা, সভা আয়োজনে শ্রমিকের পারিশ্রমিক ১ লাখ টাকা এবং সভায় আসবাবপত্রের জন্য ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ব্যয় করবেন আরিফ। এ ছাড়া তিনি ১ লাখ লিফলেটে এক লাখ টাকা এবং ২৭ হাজার হ্যান্ডবিলে ৫৪ হাজার টাকা, ৪৫টি ব্যানারে ৩৬ হাজার টাকা এবং এগুলো টানাতে ৯ হাজার টাকা, ১০০টি ডিজিটাল ব্যানার তৈরি ও টানানো বাবদ ৫০ হাজার টাকা, ৩০টি পথসভায় মাইক ভাড়া বাবদ ৪৫ হাজার টাকা, নির্বাচনী প্রচারণায় মাইকিংয়ের জন্য যানবাহন ভাড়া ৪২ হাজার টাকা, শ্রমিকের জন্য ২১ হাজার টাকা ও মাইকের ভাড়া ২১ হাজার টাকা, ৪০টি নির্বাচনী প্রতীক তৈরিতে ৮ হাজার টাকা, ৩টি অফিসে আপ্যায়ন বাবদ ৪২ হাজার টাকা, ১০০ জন কর্মীর আপ্যায়নে ১ লাখ ২৬ হাজার টাকা এবং বিবিধ ক্ষেত্রে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা ব্যয় করবেন।